ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ধর্ষণ-ভিডিও: বান্ধবীর মামলায় রাবি শিক্ষার্থী রিমান্ডে

ধর্ষণ-ভিডিও: বান্ধবীর মামলায় রাবি শিক্ষার্থী রিমান্ডে
×

অভিযুক্ত মাহফুজুর রহমান সারদ

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৬:৫২ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৮:২৩

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে মেসে নিয়ে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের ঘটনা ঘটেছে। পরে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে তারই এক 'বন্ধু'। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ওই বন্ধুকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নিয়েছে।

গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীর নাম মাহফুজুর রহমান সারদ। সোমবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর মুখ্য হাকিম আদালত-৫ এর বিচারক সেলিম রেজা শুনানি শেষে তার দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মতিহার থানার ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ জানান, ধর্ষণ ও তার ভিডিও ধারণের ঘটনার মামলায় সাভারের মাহবুবুর রহমানের ছেলে মাহফুজুর রহমানের তিনদিনের রিমান্ড চেয়ে রোববার আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। সোমবার রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সোমবার বিকেলে তাকে থানা হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে মতিহার থানার (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ জানান, গত ২৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮ টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাহফুজুর রহমান সারদ (২২) তার বান্ধবী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বিভাগের এক ছাত্রীকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে কাজলা সাঁকপাড়া এলাকায় তার মেসে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার বন্ধু নগরীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র প্লাবন সরকার, রাফসান, জয়, জীবন এবং বিশালকে দিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করানো হয়। ওইদিন গভীর রাতে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

ওসি আরও জানান, ধর্ষণের পরে ওই ছাত্রীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে মাহফুজুর রহমান সারদ। তার দাবি করা টাকা না দিলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। পরে ওই ছাত্রী ধর্ষণের বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানান।

গত ২৭ জানুয়ারি দুপুরে ধর্ষণের শিকার রাবির ওই ছাত্রী তার বাবা ও মাকে নিয়ে মতিহার থানায় একটি ধর্ষণের মামলা করেন। মামলা করার পরেই মতিহার থানা পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে সারদ এবং তার দুই বন্ধু প্লাবন তালুকদার (২১) ও রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র রাফসানকে (২২) গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের পরে তাদের কাছ থেকে ধর্ষণের ভিডিওসহ মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত মাহফুজুর রহমানের দুই বন্ধু মতিহার থানার কাজলা এলাকার জীবন (২৫) ও জয়কে (২২) গ্রেফতার করা হয়। মামলার ছয় আসামীর মধ্যে পাঁচজনকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও অপর আসামি বিশাল পলাতক রয়েছে।

যে মেসে ঘটনাটি ঘটেছে সেটির মালিক হাসান আলী জানান, তিন মাস আগে ওই ছাত্রদের বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন তিনি। তারা মেস হিসেবে বাড়িটি নিলেও একমাস পরে তাদের আচরণ দেখে সুবিধাজনক মনে হয়নি। তখন তিনি মেস ছেড়ে দিতে বলেছিলেন। কিন্তু তারা অনুরোধ করে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত থাকতে চায়। এর মধ্যেই এমন ঘটনার খবর পান তিনি।

আরও পড়ুন

×