ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এমজিএইচ গ্রুপের আনিস আহমেদ গোর্কির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

এমজিএইচ গ্রুপের আনিস আহমেদ গোর্কির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
×

এমজিএইচ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আনিস আহমেদ। ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ | ১১:৩৯ | আপডেট: ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৪:১৩

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এমজিএইচ গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আনিস আহমেদ গোর্কির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি মন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে বুধবার কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাটি করেন।

এজাহারে বলা হয়, আনিস আহমেদের নামে ১৩৬ কোটি দুই লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ রয়েছে। যা তিনি ভোগ-দখলে রেখে দুদক আইন লঙ্ঘন করেছেন।

দুুদকে পেশ করা সম্পরে হিসাব বিবরণীতে ওই পরিমাণ অর্থ তার ব্যবসায় বিনিয়োগকৃত অর্থ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ওই পরিমাণ অর্থের স্বপে সন্তোষজনক রেকর্ডপত্র, তথ্য, প্রমাণাদি কমিশনে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অনুসন্ধানকালে তার ওই অর্থের বৈধ উৎস্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আসামি আনিস আহমেদ অবৈধভাবে অর্জিত ১৩৬ কোটি দুই লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈধ করার অপচেষ্টা করেছেন। যা দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভুত ওই পরিমাণ সম্পদ তিনি ভোগ খলে রেখে এবং সম্পদ হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করে দুদক আইন-২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, আনিস আহমেদ দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মোট ৪৪২ কোটি ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৬ সম্পদের হিসাব পেশ করেছেন। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ ১২১ কোটি ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৪৭ টাকার ও অস্থাবর সম্পদ ৩২১ কোটি ১৬ লাখ ৯১ হাজার ৮৮৯ টাকার। এই হিসাব যাচাই করে স্থাবর-অস্থাবর ৪৪০ কোটি ৫৮ লাখ ২৫ হাজার ৬৩৬ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে তার নামে ভাড়া বাবদ অগ্রিম ২১ কোটি ৮৪ লাখ ৫ হাজার ৮৫২ টাকা এবং লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের ঋণের স্থিতি এক লাখ ৬৪ হাজার ২৭১ টাকাসহ মোট ২১ কোটি ৮৫ লাখ ৭০ হাজার ১২৩ টাকার দায়-দেনা, ঋণব্যতীত নীট সম্পদ পাওয়া যায় ৪১৮ কোটি ৭২ লাখ ৫৫ হাজার ৫১৩ টাকা।

২০০৮-২০০৯ ও ২০২১-২০২২ করবর্ষে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ মোট ৫৩ কোটি ৬১ লাখ দুই হাজার ২৪৭ টাকা খরচের হিসাব পাওয়া যায়। তার পারিবারিক ব্যয়সহ অর্জিত ৪৭২ কোটি ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টাকার সম্পদের বিপরীতে ২০০৮-২০০৯ ও ২০২১-২০২২ করবর্ষে আয়ের বিভিন্ন উৎসের মধ্যে ২০২০-২১ করবর্ষে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ১৯এএএএএ ধারায় ১৩৬ কোটি দুই লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ টাকা আয়ের তথ্য দেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, আনিস আহমেদ ২০২০-২০২১ করবর্ষে তার আয়কর নথিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত ১৩৬ কোটি দুই লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ বৈধ উৎস্য দেখাতে পারেনি বলে এই পরিমাণ অর্থের সম্পদ অবৈধ বলে প্রমাণিত হয়।

আরও পড়ুন

×