ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ক্ষুদ্র দোকানির দৈনিক ক্ষতি হাজার কোটি টাকার বেশি

আড়াই হাজার কোটি টাকা তহবিল চায় দোকান মালিক সমিতি

আড়াই হাজার কোটি টাকা তহবিল চায় দোকান মালিক সমিতি
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২০ | ১০:০২

করোনা রোধে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী দোকান ও মার্কেট বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে সারাদেশে অর্ধকোটির বেশি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি কর্মচারী এখন ঘরে অবস্থান করছেন। তাদের আংশিক প্রয়োজন মেটাতে আপাতত নূন্যতম আড়াই হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। দেশের এসব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা সচল রাখার পাশাপাশি কর্মচারীদের একই অবস্থায় টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছে দোকান মালিক সমিতি।

বুধবার সংগঠনের সভাপতি হোলাল উদ্দিনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। এতে বলা হয়, ক্ষুদ্র পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন নগদ টাকা লেনদেন করে। এই টাকা থেকেই কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা হয়। বর্তমানে দোকান বন্ধ থাকায় তারা নগদ টাকা পাচ্ছেন না। ফলে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে পারছেন না।

এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংগঠনটি জানায়, দেশে ক্ষুদ্র পাইকারী ও খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাদের কর্মচারী ১৫ জনের নিচে এমন সংখ্যা ৫৩ লাখ ৭২ হাজার ৭১৬টি প্রতিষ্ঠান। যা দেশের মোট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ৩৯ ভাগ। পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ৮৫ ভাগ। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট কর্মচারীরর সংখ্যা ৯৭ লাখ ১৩ হাজার ৯২৯ জন। তাদের প্রতি মাসে বেতন ১৪ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ট্রান্সপোর্টসহ ক্ষুদ্র পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা জিডিপিতে ২৪ দশমিক ৬০ ভাগ অবদান রাখছে। এসব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে দৈনিক গড় বিক্রি ২০ হাজার টাকার ১০ শতাংশ লভ্যাংশ হিসাবে মোট ক্ষতি এক হাজার ৭৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদনে তারা বলেন, কর্মচারীদের বেতন দিতে যা প্রয়োজন হবে তার আংশিক প্রয়োজন মেটাতে প্রতি কর্মচারীর আংশিক বেতন ধরে বিনা সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য অন্তত আড়াই হাজার কোটি টাকার তহবিল দরকার। এ ক্ষেত্রে একজন কর্মচারীর গড় বেতন ১৫ হাজার টাকা হলে এর আংশিক বেতন ৭ হাজার টাকার ধরে এই সহযোগিতা চেয়েছে দোকান মালিক সমিতি। এতে বলা হয়, এই তহবিল থেকে ক্ষুদ্র পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বিনা সুদে ঋণ পাবেন। এই ঋণের টাকা থেকে কর্মচারীকে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করতে পারবেন। এ ঋণ কেবল তাদের জন্য চাওয়া হয়েছে যাদের কর্মচারীর সংখ্যা ১৫ জনের নিচে। আগামী এক বছরের জন্য এ ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। যা পরবর্তী ছয় মাস পর থেকে ফেরত দিতে শুরু করবেন।

দোকান মালিক সমিতি জানায়, বর্তমানে যেসব ব্যবসায়ীর ঋণ রয়েছে কিন্তু কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না তাদের ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য ৬ মাস সময় দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ আদায় বন্ধ করে সাধারণ হারে সুদ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

সংগঠনটির দাবি, এর আগে দোকান মালিক সমিতি দুর্যোগকালীন সময়ে সাহায্য, প্রণোদনা বা আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানায়নি। শুধুমাত্র ২০১৩ সালে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ বায়তুল মোকাররমের ৩৩৩ জন ব্যবসায়ীকে প্রধানমন্ত্রী স্বপ্রণোদিত হয়ে ৫০ হাজার টাকা করে প্রণোদনা দিয়েছিলেন। বর্তমানে করেনাভাইরাসে আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি থাকায় তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।

আরও পড়ুন

×