অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহর ইমেরিটাস নিয়োগ বিধিবহির্ভূত: বিএমইউ
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ (ফাইল ফটো)
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ | ১৯:৩৬ | আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ | ১৯:৪৭
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসারে হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি; বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামালের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহর প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টির পটভূমি তুলে ধরেছে। নথিপত্র পর্যালোচনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক, প্রক্রিয়াগত ও আর্থিক বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ৬৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ ও ৮৫তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহকে তিন বছরের জন্য প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় তাকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানী, চিকিৎসাসুবিধা ও সীমিত প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়া হতো। নির্ধারিত মেয়াদের এই নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনের কোনো আপত্তি ছিল না বলেও জানানো হয়।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস আগে, ২০২৪ সালের ২০ জুন অনুষ্ঠিত ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় প্রফেসর ইমেরিটাস অধ্যাদেশ সংশোধন করে আজীবন নিয়োগের বিধান যুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়। এতে অধ্যাপক আব্দুল্লাহর জন্য অবসরের সময়কার অধ্যাপকের বেতন-ভাতার সমপরিমাণ মাসিক সম্মানী, আজীবন চিকিৎসাসুবিধা, অফিস, জনবলসহ অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণ করা হয়।
বিএমইউর ভাষ্য, বাজেট অধিবেশনের মূল এজেন্ডার বাইরে এ ধরনের প্রস্তাব আনা ছিল নজিরবিহীন এবং বিধিবহির্ভূত। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, এর মাধ্যমে একজনকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়। এ খাতে তিনি এ পর্যন্ত আনুমানিক ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি অর্থ গ্রহণ করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের প্রস্তাব, ডিনের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন ও মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশসহ নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু অধ্যাপক আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। কেবল একজন সদস্যের প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাকে আজীবন নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, গত প্রায় দুই বছরে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত হননি, শিক্ষাদান বা গবেষণাসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পর্কেও প্রশাসনকে অবহিত করেননি। তবে এ সময়ে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন।
বর্তমান প্রশাসনের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগের নজির থাকলেও আজীবন পূর্ণকালীন অধ্যাপকের সর্বোচ্চ বেতনের সমপরিমাণ সুবিধা প্রদানের নজির পাওয়া যায়নি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, গত ১৩ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে ২০২৪ সালের ২৪ জুনের আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগকে বিধিবহির্ভূত বিবেচনায় বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, বিধি অনুযায়ী কোনো নিয়োগ পরবর্তীকালে আইনগত বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে বাতিল হলে ওই নিয়োগের ভিত্তিতে দেওয়া আর্থিক সুবিধা পুনরুদ্ধারের বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী নেওয়া অর্থ ফেরতের অনুরোধ করা হয়েছে। তবে কাউকে হয়রানি করা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
- বিষয় :
- বিএমইউ
- ইমেরিটাস অধ্যাপক
