ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প

‘আমার চিৎকারে কেউ সাড়া দেয়নি—না ভাই, না ছেলে, না মা’

‘আমার চিৎকারে কেউ সাড়া দেয়নি—না ভাই, না ছেলে, না মা’
×

ধ্বংস্তূপ থেকে একজনকে উদ্ধার করেছেন প্রতিবেশীরা। ছবি: এপি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ | ২১:১০ | আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ | ২১:৩৫

শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের আঘাতে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা। রাজধানী কারাকাসের উত্তরে লা গুয়াইরাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এখন শুধুই কংক্রিটের স্তূপ আর স্বজনহারা মানুষদের হাহাকার। সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ খালি হাতে কিংবা সাধারণ যন্ত্রপাতি নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন উদ্ধারকাজে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের আর্তনাদ আর বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের কান্না—সব মিলিয়ে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হচ্ছে দেশটি।

শূন্য আশায় ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে...  

লা গুয়াইরা শহরতলীতে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। ২৮ বছর বয়সী ইউলেইদি কাদেনাস বুধবার যখন দ্বিতীয়বার ভবন ধসে পড়ে, তিনি খালি পায়ে পালিয়ে নিজের জীবন বাঁচান। কিন্তু পরে জানতে পারেন, তার মায়ের ১২ তলা সরকারি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি পুরোপুরি মাটিতে মিশে গেছে।

এখন তিনি সেই ধ্বংসস্তূপের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন ছেলে, মা ও ভাইকে ফিরে পাওয়ার এক ক্ষীণ আশায়।

কান্না চেপে কাদেনাস বলেন, ‘আমি ধ্বংসস্তূপের ওপর উঠে তাদের নাম ধরে চিৎকার করে সাড়া দিতে ডাকছিলাম, কিন্তু কেউই তা করেনি—না আমার ভাই, না আমার ছেলে, না আমার মা।’  

হায় ঈশ্বর, আমরা কীভাবে তাদের বের করে আনব? 

প্রতিবেশীরা যখন কেবল হাতুড়ি এবং পাওয়ার টুল ব্যবহার করে একটি ধসে পড়া ভবনের বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাব কাটার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন, তখন পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাজারেথ হিমিনেজ।

তার ভাই-বোন, ভাইপো-ভাতিজি এবং বন্ধুরা এখনও ওই কংক্রিটের নিচে আটকা। তারা বেঁচে আছেন কিনা, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন হিমিনেজ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘হায় ঈশ্বর, আমরা কীভাবে তাদের বের করে আনব?’

তার দৃঢ় বিশ্বাস, এই বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকেই জীবিত আছেন। তাদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি পাঠাতে তিনি নিজ দেশের সরকার এবং বিশ্ববাসীর কাছে আকুল আবেদন জানান তিনি। 

বেঁচে থাকার চরম সংগ্রাম

ভূমিকম্প কেবল ভবনই ধসিয়ে দেয়নি, কেড়ে নিয়েছে বেঁচে থাকার ন্যূনতম উপকরণও। মাইকেতিয়া অঞ্চলে পণ্যসামগ্রী এতটাই দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে, দোকান ও ফার্মেসির বাইরে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ার মতো।

পরিস্থিতি কতটা মরিয়া, তা বোঝা যায় একটি ঘটনা থেকে। একপর্যায়ে এক নারী এক প্যাকেট ডায়াপারকে ছিনতাই হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। 

দেশের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে কাতিয়া লা মার-এ কিছু বাসিন্দা বাধ্য হয়ে দোকান থেকে খাবার ও টয়লেট পেপারের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে শুরু করেছেন। অনেক দোকান ও বাসার পার্কিং লট এখন তাবু, ত্রিপল এবং হ্যামক (ঝুলন্ত বিছানা) দিয়ে ঘেরা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সহায়তার ডাক ও কর্তৃপক্ষের সাড়া

দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এই ক্রিটিকাল আওয়ার্সের মধ্যে কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মকভাবে সাড়া দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী এবং মানবিক সহায়তাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি জানান, লা গুয়াইরায় সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং আরও সহায়তা পথে রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারি বাহিনী খাবার ও পানি বিতরণ শুরু করেছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যে পরিমাণ সহায়তা আসছে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। 

সূত্র: এপি 

আরও পড়ুন

×