ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

জাহানারা ইমামকে শিবির প্যানেলের রাকসু নেতার কটাক্ষ

জাহানারা ইমামকে শিবির প্যানেলের রাকসু নেতার কটাক্ষ
×

জায়িদ হাসান জোহা

রাবি সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ | ২২:০৩ | আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ | ২২:২২

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাংস্কৃতিক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা। শনিবার ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি এই কটাক্ষ করেন।

রাকসুর এই নেতা ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে নির্বাচিত। তবে এখন শিবিরের কোনো পদে না থাকলেও তিনি ২০২৪ সালে শহীদ হবিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। ফেসবুকে জোহা লেখেন, ‘জাহান্নামের ইমামের মরণদিবস আজ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বাস্তবায়ন করেছিল বিদেশি নকশা।’
পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে অনেকে এর সমালোচনা করেন।

জোহার পোস্টের সমালোচনা করে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী এক পোস্টে লেখেন, ‘রাকসুর অপ!সংস্কৃতি সম্পাদক জোহা শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে জাহান্নামের ইমাম বলে ফতোয়া দিয়েছে। কারণ জাহানারা ইমামই প্রথম ওদের জাতির পিতা রাজাকার কুলের শিরোমণি গোলাম আজমকে গণআদালতে ফাঁসি দিয়েছিল। এটাই আমাদের গত ৫৫ বছরের রাজনৈতিক খেসারত যে জোহার মতো যুদ্ধাপরাধীর উত্তরসূরীরা দেশের ২য় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়, শহীদের মাকে নিয়ে বাজে কথা বলার সাহস পায়।’

পপুলেশন সায়েন্স ও হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খান আমান সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘রাবিতে যারা ছাত্ররাজনীতি করে তারা খুবই আনস্মার্ট। ক্যাম্পাসে এতক্ষণ প্রতিবাদমুখর হওয়া উচিত ছিল। রাকসুর অপসংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদকের পদ বাতিলের দাবিতে রাকসুর সভাপতিকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া উচিত। তারা বাংলাদেশে থেকে এদেশের ইতিহাস কটাক্ষ করবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জায়িদ হাসান জোহা বলেন, বিগত সময়ে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধীর নামে যেই হত্যাকাণ্ড হয়েছিল, সেই ভিত্তিটা জাহানারা ইমামের হাত ধরে তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশে মব কালচারের গোড়াপত্তনকারীকে বলেছি। আমি কোনো শহীদের মাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করিনি। এখানে কোনোভাবে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করা হয়নি। 

জাহানারা ইমাম দেশের প্রখ্যাত লেখিকা, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক কর্মী। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পরিবারের এই অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি শহীদ জননী হিসেবেও পরিচিত।

১৯৯২ সালে স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এ কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। তাঁর রচিত ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বইটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত।

আরও পড়ুন

×