ছাত্রদল নেতার মারধর
অর্থের অভাবে চিকিৎসা ছাড়াই বাসায় দৃষ্টি হারানো সেই কিশোর
ছবি: সমকাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ | ২২:৫৯ | আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ | ২৩:০৯
সাভার পৌর এলাকার রাজাশন মহল্লায় রিপন দাস (১৫) নামে এক কিশোরকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, মারধরের শিকার ওই কিশোর এখন দুই চোখে দেখতে পারছে না।
রিপনের মা বাসন্তী ঋষি জানান, মারধরের কারণে ছেলের চোখে ও মাথায় গুরুতর সমস্যা হয়েছে। পরে চিকিৎসার জন্য প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। এর পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না।
তিনি আরও জানান, অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে না পারায় গত বৃহস্পতিবার তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়েছে। তার মাথায় আঘাত করায় মাথার ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার মাথায় অপারেশন করাতে হবে।
নির্যাতিত কিশোরের বোনজামাই স্বপন চন্দ্র সূত্রধর গত বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামিরকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ এবং ৫ থেকে ৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন।
কিশোর রিপন দাসের বোনের জামাই ও মামলার বাদী স্বপন চন্দ্র সূত্রধর অভিযোগ করেন, শনিবার দুপুরে ওই ছাত্রদল নেতার মা ও মামা আনোয়ার হোসেন কিশোর রিপন দাসের রাজাশনের বাসায় যান। তারা চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা দিয়ে থানা থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বলে গেছেন।
এ ঘটনায় পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত মাহাবুব হোসেন সামিরকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও তিনি সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। সে সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর ছাত্রদল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
- বিষয় :
- সাভার
- শিশু নির্যাতন
