বিজিএমইএর অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী
জ্বালানি সংকট কাটাতে আপৎকালীন মহাপরিকল্পনা নেবে সরকার
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ | ২৩:১১
শিল্পকারখানায় দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আপৎকালীন মহাপরিকল্পনা নেবে সরকার। এ উদ্দেশে এলএনজি সরবরাহে (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) দ্রুত আরও ৬০০ এমএমসিএফ গ্যাস যুক্ত করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে দৈনিক আরও ৯০০ এমএমসিএফ গ্যাস যুক্ত করা হয়েছে।
‘ইন্ডাস্ট্রি প্লেসমেন্ট, রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে আজ শনিবার এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ) ‘এইচএসবিসি-এইউডব্লিউ স্কুল অব অ্যাপারেল’ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি সক্ষমতা শক্তিশালী করতে চায় সরকার। এ জন্য ব্যবসা শুরুর অনুমতি ও লাইসেন্স থেকে শুরু করে বন্দর ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি খাতে দ্রুতগতির সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় বৈশ্বিক বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার ব্যবসা শুরু ও লাইসেন্স প্রাপ্তির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনাসহ কোম্পানি নিবন্ধনের মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে প্রাথমিক অনুমোদনের উদ্যোগ নিয়েছে। ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে সব সেবা অনলাইনে দেওয়া, সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু ও বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।
রাজধানীর উত্তরার বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। উপস্থিত ছিলেন এইউডব্লিউর উপাচার্য ড. রুবানা হক, ইয়াংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাং, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ, হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ, বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান ও সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান প্রমুখ।
পোশাকশিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, নারী নেতৃত্বের বিকাশ এবং শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিনিধি, পোশাক খাতের বড় উদ্যোক্তা এবং এইউডব্লিউর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ আয়োজনে অংশ নেন।
পোশাকশিল্পে দক্ষ নারী পেশাদারদের একটি ধারা তৈরি করার লক্ষ্যেই এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে ‘এইচএসবিসি-এইউডব্লিউ স্কুল অব অ্যাপারেল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ, গ্র্যাজুয়েট রিক্রুটমেন্ট ও পোশাক খাতে আগামীর উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “ইন্ডাস্ট্রি প্লেসমেন্ট, রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট উদ্যোগটি দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বৈশ্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে বিজিএমইএর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ। আমরা এইউডব্লিউর এই দূরদর্শী প্রস্তাব এবং স্পন্সরশিপ মডেলটিকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছি। পোশাক শিল্পে আগামী প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে বিজিএমইএ তার সদস্য কারখানাগুলোকে এই সুনির্দিষ্ট স্পন্সরশিপ উদ্যোগে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে।” তিনি আরও বলেন, ২ কোটি ডলারের বেশি রপ্তানিকারক কারখানা এইউডব্লিউর অন্তত একজন শিক্ষার্থীকে কাজ দেওয়া বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজিএমইএ।
ড. রুবানা হক বলেন, পোশাক খাতের নারী কর্মীদের উচ্চশিক্ষার জন্য এইউডব্লিউর ‘মাস্টার অব সায়েন্স ইন অ্যাপারেল অ্যান্ড রিটেইল ম্যানেজমেন্ট’ প্রোগ্রাম পোশাক খাতের আগামী প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরিতে বিশেষ অবদান রাখবে।
- বিষয় :
- বাণিজ্যমন্ত্রী
- বিজিএমইএ
