চাঁদাবাজির সাজা এখন মুচলেকা: সংসদে জামায়াতের টিপ্পনি
সাইফুল আলম খান মিলন। ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ | ২২:১১
চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক বিএনপির এমপির ছেলেকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়ায় টিপ্পনি কেটে ঢাকা-১২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, গ্রেপ্তারে ভেবেছিলাম, শুভবুদ্ধির নিশ্চয়ই উদয় হয়েছে। কিন্তু পরের দিন দেখলাম মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। এতে যারা সারাদেশে চাঁদাবাজি করে, তারা বলবে— 'চাঁদাবাজি কর, একটাই শাস্তি মুচলেকা দিতে হবে।'
শনিবার সংসদে বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেন সাইফুল আলম খান মিলন। তাঁর নির্বাচনী এলাকার চাঁদাবাজির বিষয়ে বলেন, ফার্মগেট-কারওয়ান বাজার-শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজি আগেও সরকারি দলের লোকেরা করেছিল। এখনো সরকারি দলের লোকেরা করে। চাঁদাবাজদের ধরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব। চাঁদাবাজ কোন দলের লোক না, তাদের ওন করা হলে ভুল করা হবে। চাঁদাবাজদের ধরা হোক। চাঁদাবাজদের নতুন সেক্টর চালু হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে ব্যাটারি চালিত রিকশা রাস্তা থেকে সরাসরি লাইন টেনে চার্জ দেওয়া হয়। এটার জন্য চাঁদা নেওয়া হয়। এটা সরকারি দলের লোকেরা করে।
সাইফুল আলম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক গুণে গুণান্বিত। উনি আগেই বলেছিলেন এসআলমের গাড়িতে করে সংবর্ধণা নিয়েছেন, তা ঠিক হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার বলেছেন একটা দল আল্লাহু আকবার বলে ইসলামী ব্যাংক দখল করলো। এটা বুঝলাম আল্লাহু আকবরে ওনার বেশ আপত্তি। কিন্তু আরেকটি দলের যুবনেতা অস্ত্র নিয়ে ব্যাংক দখল করতে গিয়েছিলেন, যার সচিত্র প্রতিবেদন পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল, সে ব্যাপারে উনি কিছু বললেন না। তাতে কি বলবো, ওনার আল্লাহু আকবরে আপত্তি কিন্তু অস্ত্রের বিষয়ে আপত্তি নাই।
ইসলামি ব্যাংকের আরডিএস প্রকল্প থেকে জামায়াত ইসলামের নির্বাচনী ফান্ডের জন্য ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যের বিষয়ে সাইফুল আলম মিলন ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'সম্ভবত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের ও দলের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার বাজেট থেকে এটা বলেছেন। ওই বাজেটের চিন্তা করে বলেছেন'। আরেকটা কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, 'এটা অডিট হবে'। এতদিন জানতাম উনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রীর পক্ষে কথা বলেন। এখন দেখলাম অডিটেও ওনার হাত আছে।
পরে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সংসদ বললেন (সাইফুল আলম) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আল্লাহু আকবরে আপত্তি করেছেন। আমরা বুঝে থাকি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলতে চেয়েছেন, আল্লাহু আকবর বক্তব্য দিয়ে, স্লোগান দিয়ে ব্যাংক ডাকাতি করবার সুযোগ নেই। বিগত ১৭ বছরে সমাজের হাজারো অনিয়মকে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে জায়েজ করতে। আমরা চায় না আগামীতে নারায়ে তাকবীর বা আল্লাহু আকবর স্লোগান দিয়ে কোন অবৈধ-অপকর্মকে জায়েজ করতে।
বগুড়া জেলায় অতিরিক্ত উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে—বিরোধী দলের এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, গত কয়েক মাসে এলজিইডির সর্বোচ্চ বরাদ্দ গেছে কুমিল্লা, নরসিংদী ও বাগেরহাটে। বগুড়া বরাদ্দের তালিকায় ১৬তম অবস্থানে রয়েছে। তাই বগুড়াকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তথ্যভিত্তিক নয়।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বগুড়া উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। এখন অতীতের সেই ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানানো হচ্ছে।
