ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিবৃতিদাতাদের বাংলাদেশের প্রাণশক্তি বোঝার আহ্বান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের

বিবৃতিদাতাদের বাংলাদেশের প্রাণশক্তি বোঝার আহ্বান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৫:১৭ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৫:১৭

বিদেশি বিবৃতিদাতাদের বাংলাদেশের প্রাণশক্তি ও পরিবর্তনের ধারা অনুধাবন করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের একজন নোবেলজয়ীকে নিয়ে সম্প্রতি বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কেউ কেউ বিবৃতি দিয়েছেন। ওই ব্যক্তির প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মুনাফা ও সুবিধা গ্রহণের প্রভৃতি অগ্রাধিকার পেয়েছে। কিন্তু মানবকল্যাণ সম্পাদিত হয়নি। বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সঙ্গে তা লেজুড়বৃত্তি ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধপ্রসূত মৌলিক ভাবনার সঙ্গে তার দূরত্ব অনেক বেশি।

বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলার টেকনাফের হ্নীলাস্থ মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজ আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের শোষণহীন সমাজের কথা বলা হয়েছিল। সেই ধারাই বাংলাদেশের মূলধারা, যা বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তৎসময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক সুবিধাবাদী দেশ বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হতে দিয়ে বরং তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। আজও একই শক্তির নানারূপ বিবৃতি আমরা দেখতে পাই। কেননা বর্তমানে বাংলাদেশে বেদে, তৃতীয় লিঙ্গ, গৃহহীন ও সুবিধা বঞ্চিতসহ সবার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হচ্ছে। গৃহহীনদের দেওয়া হচ্ছে পাকা ভবন।

তিনি বলেন, অন্যদিকে নোবেলজয়ী ড. ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘকাল জুড়ে শ্রম শোষণের মধ্যদিয়ে অর্থনৈতিক মুনাফাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। যা আজও উল্লেখিত পরাশক্তির পছন্দের। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও নিজস্ব আদলে গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক সমন্বয়ে বাংলাদেশের প্রাণশক্তি গঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে সেই কল্যাণধর্মী সমাজ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এটিই বাংলাদেশের মূল প্রাণশক্তি, নতুন অর্থনৈতিক উত্তরণের সোপান। বিবৃতিদাতাদের বক্তব্যে সেই উত্তরণে বিঘ্ন ঘটানোর স্পষ্ট আভাস রয়েছে। বাংলাদেশর মানুষ মুনাফাভিত্তিক ঋণ প্রকল্প প্রত্যাখ্যান করেছে। আর প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ প্রকৃত মুক্তির দর্শনকে গ্রহণ করেছে ও স্বাগত জানিয়েছে।

অতিসম্প্রতি বিবৃতিদাতাদের অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করে প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আজ নতুন শক্তিতে বলীয়ান। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ ক্ষেত্রে কোনো রূপ বৈদেশিক চাপ বা বল প্রয়োগের ধারা কাঙ্ক্ষিত নয়। তাদের স্ব স্ব দেশের লাগামহীন পুঁজিবাদী ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং নতুন নতুন যুদ্ধাবস্থা নিরসনে মনোযোগী হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। 

মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের সভাপতি নৃবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদের সভাপতিত্বে ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আ ন ম তৌহিদুল মাশেক তৌহিদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এইচ এম ইউনুছ আলী, ফখর উদ্দিন আহামদসহ কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন

×