ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

নুসরাত হত্যার রায়

আদালতে আনা হয়েছে আসামিদের, তিন স্তরের নিরাপত্তা

আদালতে আনা হয়েছে আসামিদের, তিন স্তরের নিরাপত্তা
×

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ২৩:০৬ | আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ২৩:১১

অধ্যক্ষের যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় মামলার রায় দেবেন। মামলার সাত মাসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ এ রায় দিতে যাচ্ছেন।

এ রায় ঘিরে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। মামলার ১৬ আসামিকে রায়ের আগে ফেনী জেলা কারাগার থেকে আদালতে নেওয়া হয়েছে।

ফেনীর পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুন্নবী জানান, সবাইকে তল্লাশি করে আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহনকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না আদালত এলাকায়। 

সকাল থেকে আদালত চত্বরে ভিড় করে আছেন বিপুল সংখ্যক সংবাদকর্মী। এসেছেন নুসরাতের সহপাঠী, বন্ধু, স্বজনরাও।   বাদীপক্ষের কৌঁসুলি এম শাহজাহান সাজু বলেন, এ আদালতের বিচারক সাধারণত বেলা ১১টার দিকে আদালতে বসেন। এরপরই কোনো এক সময় রায় ঘোষণা হতে পারে। ৬২ কার্যদিবস শুনানির পর এই রায় দেওয়া হচ্ছে, এটা বাংলাদেশে ‘নজিরবিহীন’। এছাড়া দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো হত্যা মামলার আলামত হিসেবে প্রজেক্টরের মাধ্যমে আদালতে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি হাফেজ আহমেদ আশা করছেন রায়ে ১৬ আসামির সবারই সর্বোচ্চ সাজা হবে।

গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে শ্নীলতাহানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজ। ওই দিন মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার হন তিনি। ২৮ মার্চ সিরাজকে কারাগারে পাঠানো হয়। আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন ও কাউন্সিলর মাকসুদের তত্ত্বাবধানে অধ্যক্ষের পক্ষে মানববন্ধন হয়। একই দিন কাউন্সিলর মামুনের নেতৃত্বে অধ্যক্ষের বিপক্ষেও মানববন্ধন হয়। পরদিন ফেনীর জেলখানায় গিয়ে সিরাজের সঙ্গে দেখা করেন এ মামলার আসামি নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, আবদুল কাদের, জাবেদ, রানা, অধ্যক্ষের স্ত্রীসহ সাতজন।

গত ১ এপ্রিল জেলখানায় অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে শামীম, নূর উদ্দিনসহ পাঁচজন। ওই দিন ডিসি ও এসপির কাছে অধ্যক্ষের পক্ষে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। ৩ এপ্রিল আবার ফেনীর জেলখানায় প্রিন্সিপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ১৫ জন। ৪ এপ্রিল বিকেলে মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশের টিনশেড ভবনের পাশে অধ্যক্ষের পক্ষে প্রথম বৈঠক হয়। সেখানে নূর উদ্দিন, জোবায়েরহ ছয়জন উপস্থিত ছিল। দ্বিতীয় বৈঠক হয় সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। ওই বৈঠকে ২০ সদস্যের মুক্তি পরিষদ গঠন হয়। দ্বিতীয় দফার বৈঠকে উপস্থিত ছিল ১৬ জন।

৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মাদ্রাসার পশ্চিম পাশের তৃতীয় তলার ছাত্র হোস্টেলে তৃতীয় দফায় বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিল নূর উদ্দিন, শামীম, জোবায়ের, কাদেরসহ ১০ জন। হত্যায় ব্যবহূত সরঞ্জাম কেনায় অর্থ দেয় কাউন্সিলর মাকসুদ আলম। কেরোসিন কেনে শামীম, বোরকা ও হাতমোজা কিনেছে কামরুন্নাহার মনি। এর আগে উম্মে সুলতানা পপির মাধ্যমে শামীমের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা পায় মনি। ৬ এপ্রিল বান্ধবী নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে বলে ছাদে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন দেওয়া হয়। একটি গ্রুপ এ কাজে নিয়োজিত ছিল। আরেকটি গ্রুপ মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টার ও গেট পাহারায় ছিল। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢামেক বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত।

গত ২৯ মে ১৬ জনকে আসামি করে নুসরাত হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করে পিবিআই। ১০ জুন আদালত মামলাটি আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। এ মামলায় মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ৮৭ জন। নুসরাত হত্যার পর বেরিয়ে আসে এসপি, এডিএম (অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) ও ওসির বিতর্কিত ভূমিকার কথা। নুসরাতের পরিবারও বলে আসছে, প্রশাসনের লোকজন দায়িত্বশীল আচরণ করলে হয়তো নুসরাতকে ওই পরিণতি বহন করতে হতো না।

আরও পড়ুন

×