করোনা উপসর্গ
আইনজীবী ব্যাংকারসহ মৃত্যু আরও ১৩
প্রতীকী ছবি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১৫ জুন ২০২০ | ১৫:১৭
জ্বর-সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামে একজন আইনজীবী ও একজন ব্যাংকারসহ তিনজন রয়েছেন। পাবনাতেও একজন ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মারা গেছেন এক ইউপি সদস্য। এ ছাড়া নোয়াখালীতে এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, সাতক্ষীরায় দু'জন, মৌলভীবাজারে দু'জন এবং পিরোজপুর, বগুড়া ও খুলনায় একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে সারাদেশে করোনা উপসর্গে মারা গেলেন ৭৩২ জন।
সমকালের ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান অ্যাডভোকেট এএম মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি পটিয়া উপজেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও পটিয়া আইন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। রোববার রাতে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। তিনি আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের শিলাইগড়া গ্রামের বাসিন্দা।
এদিকে রাউজানের গহিরার বাসিন্দা সাধন বড়ুয়া শহরের কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরলেও করোনা উপসর্গ থাকায় কোনো হাসপাতাল ভর্তি নেয়নি। পরে বাড়িতেই তিনি মারা যান।
করোনা উপর্সগ নিয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উৎপল কুমার সরকার (৫০) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক সালেহ মুহাম্মাদ আলী জানান, রোববার সকালে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার পাবনা শহরের শালগাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা উৎপল সরকার হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিন রাতেই মারা যান তিনি।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে করোনার উপসর্গ নিয়ে উপজেলার গুণবতী ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার শফিকুর রহমান মারা গেছেন। গতকাল সকালে ফেনী সদর হাসপাতালে নেওয়ার সময় তিনি মারা যান। তার বাড়ি ওই ইউনিয়নের বুধড়া গ্রামে।
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নে করোনা উপসর্গ নিয়ে নুরুল আফছার রতন (৪৩) নামের একজন আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে তার মৃত্যু হয়।
সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার বাসিন্দা এক বৃদ্ধ (৭০) রোববার মধ্যরাতে এবং দেবহাটা উপজেলার টাউনশ্রীপুর এলাকার আরেকজন (৭৫) গতকাল সকাল ১০টায় জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। করোনার উপসর্গ থাকায় তাদের নমুনা নেওয়া হয়েছে।
রোববার রাত ১২টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার পুরানগাঁও গ্রামের এক নারী (৫৫) ও রাত সাড়ে ৯টার দিকে জুড়ী উপজেলার কোনাগাঁওয়ের এক ব্যক্তি জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা গেছেন। শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী জানান, ওই নারী হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তাই তার নমুনা নেওয়া হয়নি।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক সবজি বিক্রেতার (৬০) মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন গুচ্ছগ্রামে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। চারদিন ধরে তিনি সর্দি-জ্বরে ভুগছিলেন।
বগুড়ার আদমদীঘিতে করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকাফেরত এক ব্যক্তির (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার উথরাইল গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল ভোররাতে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তিনি ঢাকার শ্যামলীতে একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় ভর্তির এক ঘণ্টা পরই মারা যান এক ব্যক্তি (৬০)। তিনি নগরীর ফুলবাড়িগেট এলাকার বাসিন্দা। এ নিয়ে করোনার উপসর্গ নিয়ে খুলনায় ৪৩ জনের মৃত্যু হলো।