ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

প্লাজমা থেরাপির প্রয়োগ ব্যাহত

প্লাজমা থেরাপির প্রয়োগ ব্যাহত
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২০ | ১২:০০

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে প্লাজমা থেরাপির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। এ পর্যন্ত প্রায় একশ' করোনা আক্রান্ত মানুষের শরীরে এই প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কার্যকর ফল পাওয়া গেছে। এর পরই প্লাজমা থেরাপির কার্যক্রম সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেন এর উদ্যোক্তা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ খান। ঢামেক হাসপাতালের পাশাপাশি অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত রোগীদের যাতে এই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়, সেজন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে স্বাস্থ্য বিভাগও। কিন্তু এই প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের আগে আক্রান্ত ব্যক্তির অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করতে হয়। এজন্য কিটের প্রয়োজন। কিন্তু এই কিট সংকটের কারণে প্লাজমা থেরাপি কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী একটি প্রতিষ্ঠান কিট আমদানিও করে। কিন্তু এনওসি না পাওয়ার কারণে ওই কিট বিমানবন্দরে আটকে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. এম এ খান সমকালকে বলেন, ভালো ফল পাওয়ায় এখন অনেকেই প্লাজমা থেরাপির বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এটি প্রয়োগের আগে আক্রান্ত ব্যক্তির অ্যান্টিবডি পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, আক্রান্ত ব্যক্তির কী পরিমাণ প্লাজমার প্রয়োজন হবে। এজন্য অ্যান্টিবডি কিটের প্রয়োজন। কিন্তু কিট না থাকায় ওই অ্যান্টিবডি পরীক্ষা না করেই প্লাজমা দেওয়া হচ্ছে। এতে করে অনেকের ক্ষেত্রে আশানুরূপ ফল মিলছে না।

ডা. এম এ খান আরও বলেন, গত ২৪ মে জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সভায় কিট সংকটের তথ্য তুলে ধরা হয়। ওই সভায় পরামর্শক কমিটির সদস্যরা দ্রুততম সময়ে কিট সংগ্রহের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে পরামর্শ দেয়। এরপর দু-একটি প্রতিষ্ঠান কিট আমদানিও করে। কিন্তু ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এনওসি না পাওয়ায় ওই কিট বিমানবন্দরে আটকে আছে। কিট আটকে থাকায় অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। এতে করে যাদের প্লাজমা দেওয়া হচ্ছে তা অনুমান করেই চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে আশানুরূপ ফল মিলছে না। দ্রুত ওই কিটের এনওসি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

এই কিটের এনওসি দেওয়ার দায়িত্ব ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের। প্রতিষ্ঠানটি কেন কিটের এনওসি দিচ্ছে না, তা জানতে গতকাল মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমানকে কয়েক দফা ফোন করা হয়। কথা বলতে চেয়ে তার মোবাইল ফোনে এসএমএস করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন) মো. রহুল আমিনকেও কয়েক দফা ফোন করা হয়। তার মোবাইল ফোনেও এসএমএস করা হয়। তিনিও ফোন রিসিভি করেননি।

প্লাজমা ও প্লাজমা থেরাপি কী : চিকিৎসকরা জানান, রক্তের তরল হালকা হলুদাভ অংশকে প্লাজমা বা রক্তরস বলা হয়। তিন ধরনের কণিকা ছাড়া রক্তের বাকি অংশই প্লাজমা বা রক্তরস। মেরুদণ্ডী প্রাণীর শরীরের রক্তের প্রায় ৫৫ শতাংশ রক্তরস থাকে। এই প্লাজমা বা রক্তরস কীভাবে প্রয়োগ করা হবে- এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এই ভাইরাস মোকাবিলা করে টিকে থাকতে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এই অ্যান্টিবডি করোনাভাইরাসকে আক্রমণ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির প্লাজমা বা রক্তরসে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডিই আক্রান্ত অন্য রোগীদের সুস্থ করার কাজে ব্যবহার করা হবে।

দেশেও শুরু হচ্ছে প্রয়োগ : গত ৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এফডিএস করোনা আক্রান্তের চিকিৎসায় পরীক্ষামূলকভাবে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের সুপারিশ করে। চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে বাংলদেশেও এই পদ্ধতির কার্যকারিতা পরীক্ষা শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রায় একশ' করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে এই প্লাজমা প্রয়োগ করে কার্যকর ফল পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে এবং রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন বলেও জানান কয়েকজন চিকিৎসক।

আরও পড়ুন

×