করোনাকালে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২০ | ১০:৩৩
কোভিড-১৯ ক্রান্তিকালে বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে বাল্যবিবাহও। গত চার মাসে ৩০৭ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। মোট সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৭৮৮ জন। এদের মধ্যে ৪৫৭ জন নারী ও ৩৩১ জন শিশু। এছাড়াও এই সময়ে ১৮টি বাল্য বিবাহরে ঘটনা ঘটেছে। এদিকে, করোনাকালীন সময়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ করতে না পারায় সংহিসতা বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম।
বুধবার ‘কোভিড-১৯ ক্রান্তিকালে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংস পরিস্থিতি এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তি’ শীর্ষক আয়োজিত এক অনলাইনে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের ডিরেক্টর লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি এন্ড লবি অ্যাডভোকেট মাকছুদা আখতার বলেন, করোনা সংকটকালীন সময়ে নারীর প্রতি সকল ধরণের সহিংসতা, বিশেষ পারিবারিক সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধির সাথে সাথে নির্যাতনের এক ভিন্ন মাত্রা ধারণ করেছে। ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, বাল্যবিবাহ, বৈবাহিক ধর্ষণ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, সাইবার ক্রাইম ও পাচারের ঘটনা ঘটছে। এই লকডাউনে শিশু ও প্রতিবন্ধী নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, গণধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে নারী ও কন্যার জীবন অনেক ক্ষেত্রে দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। সার্বিকভাবে নারী আন্দোলনের ক্ষেত্রে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে নারীর প্রতি সৃষ্ট চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিত করে দূর করতে হলে আলাদাভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে ছিল। এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করতে হবে। একই সাথে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্যও কাজ করে যাচ্ছে এই সংগঠন।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের আরপিও সংশোধনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীর রাজনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিতে এই সংগঠন রাজনৈতিক দলে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব বিষয়ে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তিনি নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ সমাজ গঠনে পুরুষদের এগিয়ে আসার পাশাপাশি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মালেকা বানু বলেন, নারী ও কন্যার জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতে হবে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের ভূমিকা জোরদার করতে হবে, হটলাইনগুলোর কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে, উপবৃত্তির আত্ততা বৃদ্ধিসহ অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম মেয়েদের নাগালে নিতে হবে, নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য নিশ্চিতের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ভার্চুয়াল কোর্টের এখতিয়ার বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছিল যা ইতিমধ্যে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমিত পরিসরে হলেও গুরুত্বপূর্ন পুরানো মামলার শুনানি ভার্চুয়াল কোর্টে হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে ১৫ দফা সুপারিশ জানান বক্তারা। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক সাহানা কবির, অর্থ সম্পাদক দিল আফরোজ বেগম প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, সংরক্ষিত ১৩টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত নারী নির্যাতনের ঘটনার পেপার ক্লিপিং এর ভিত্তিতে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনার তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
- বিষয় :
- কোভিড-১৯
- নারী ও শিশু নির্যাতন