৪১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জনতা ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০২:৩৬
বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ৪১৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকটির ১০ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে একটি যৌথ তদন্ত দল এ জিজ্ঞাসাবাদ করে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পরের যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে জনতা ব্যাংকের স্থানীয় শাখা থেকে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) স্কিমের আওতায় ৪১৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা ঋণ অনুমোদন ও উত্তোলনের সুযোগ করে দেন।
দুদকের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনায় পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও তাদের নামে বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ঋণপত্র (এলসি) ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির দেখানো লেনদেনের মাধ্যমে অ্যাকমোডেশন বিল তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির প্রতারণা, জালিয়াতি ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গসংক্রান্ত একাধিক ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ অভিযোগে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করে।
জিজ্ঞাসাবাদ করা কর্মকর্তারা হলেন জনতা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম মরতুজা, মো. কামরুল আহছান, ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মো. ফয়েজ আলম; মহাব্যবস্থাপক মো. আশরাফুল আলম, মোসাম্মৎ আম্বিয়া বেগম, মো. আব্দুল মতিন, মিজানুর রহমান ও এস এম আবদুল ওয়াদুদ; এবং উপমহাব্যবস্থাপক ও সদস্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদ।
দুদক জানিয়েছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
- বিষয় :
- দুদক
- অর্থ আত্মসাৎ
- জনতা ব্যাংক