ডিবি কার্যালয়ে মুখোমুখি সাবরিনা-আরিফ
×
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২০ | ১২:০০
করোনা সনদ জালিয়াতিতে গ্রেপ্তার ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ও তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীকে মুখোমুখি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে তাদের রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করেন কর্মকর্তারা।
ডিবি সূত্র জানায়, জেকেজির প্রধান নির্বাহী আরিফকে দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা। তিনি আরিফকে উদ্দেশ করে বলতে থাকেন, তার এমন পরিণতির জন্য আরিফ দায়ী। অবশ্য আরিফ চৌধুরী চুপ থাকলেও বলেছেন, সাবরিনার জন্যই তিনি করোনা টেস্টের মতো কাজ নিয়েছিলেন। সব কিছুতেই তার হাত রয়েছে।
এর আগে গতকাল বুধবার ভার্চুয়াল আদালতে আরিফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। বিকেলেই তাকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মিন্টো রোডে নিয়ে আসা হয়।
জেকেজির করোনা টেস্ট কেলেঙ্কারির ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি গোলাম মোস্তফা রাসেল সমকালকে বলেন, জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা সব দোষ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। এর আগে তেজগাঁও থানা হেফাজতে থাকাকালে আরিফ সব দায় তার চিকিৎসক স্ত্রীর ওপর চাপিয়েছিলেন। কিন্তু করোনার ভুয়া টেস্টের মতো ঘটনায় দোষীদের শনাক্ত করতে সব বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া দরকার। এ জন্যই আরিফকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আগেই তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. সাবরিনা।
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, বুধবার রাতে তাদের প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মুখোমুখি করে বেশ কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এখনই স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
তদন্ত সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, করোনা সনদ জালিয়াতির বিষয়ে জেকেজি ও ওই প্রতিষ্ঠানের মূল কোম্পানি ওভাল গ্রুপের সঙ্গে ডা. সাবরিনা নিজের সম্পৃক্ততা এখনও স্বীকার করছেন না। অবশ্য প্রযুক্তিগত তদন্তে তার দেওয়া বিভিন্ন খুদেবার্তা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার প্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় এসব উপস্থাপন করা হলে সাবরিনা দাবি করছেন, আরিফ তাকে ফাঁসিয়েছেন। আবার আরিফ তার চিকিৎসক স্ত্রীর মাধ্যমে করোনা টেস্টের কাজ পাওয়ার কথা জানিয়ে বলছেন, তার কয়েক কর্মচারী সনদ জালের সঙ্গে জড়িত ছিল। বিষয়টি সাবরিনার জ্ঞাতসারেই হয়েছে। এ জন্য তিনি সাবরিনা এবং কয়েক কর্মচারীকে জেকেজি থেকে বের করে দেন বলেও দাবি আরিফের। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানকে তিনি বহিস্কার করতে পারেন কিনা সে প্রশ্নের জবাবে নিশ্চুপ থাকেন তিনি।
ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, আরিফ সনদ জালিয়াতির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে তার চাকরিচ্যুত কর্মচারী সাবেক গ্রাফিক ডিজাইনার হুমায়ুন কবীর হিরু ও তার স্ত্রী জেকেজির নার্স এবং মাঠ সমন্বয়ক তানজীন পাটোয়ারীকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, নানা অনিয়মের অভিযোগে চাকরিচ্যুত করার পর তারা ওয়েবসাইট খুলে ভুয়া সনদ দেওয়ার ব্যবসা শুরু করে। নিজেরা বাঁচতে জেকেজির ওপর দোষ চাপিয়েছে। প্রয়োজনে তাদেরও নতুন করে রিমান্ডে আনা হতে পারে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সাবরিনা ও আরিফের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। তাদের কাজ পাইয়ে দিতে যারা সহযোগিতা করেছে তারা কেউ এখান থেকে লাভবান হয়েছেন কিনা সেটাও যাচাই করা হচ্ছে। জড়িত থাকলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
করোনা পরীক্ষার সনদ জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৩ জুন জেকেজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক চৌধুরীসহ ছয় কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা হওয়ার পর ২৪ জুন নমুনা পরীক্ষার জন্য জেকেজির অনুমতি বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পুলিশি তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে করোনা সনদ জালিয়াতিতে ডা. সাবরিনার নাম আসে। গত ১২ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে ১৩ জুলাই তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। শুরুর দিকে ওই মামলাটি তেজগাঁও থানা পুলিশ তদন্ত করলেও তা এখন ডিবি তদন্ত করছে।
ডিবি সূত্র জানায়, জেকেজির প্রধান নির্বাহী আরিফকে দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা। তিনি আরিফকে উদ্দেশ করে বলতে থাকেন, তার এমন পরিণতির জন্য আরিফ দায়ী। অবশ্য আরিফ চৌধুরী চুপ থাকলেও বলেছেন, সাবরিনার জন্যই তিনি করোনা টেস্টের মতো কাজ নিয়েছিলেন। সব কিছুতেই তার হাত রয়েছে।
এর আগে গতকাল বুধবার ভার্চুয়াল আদালতে আরিফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। বিকেলেই তাকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মিন্টো রোডে নিয়ে আসা হয়।
জেকেজির করোনা টেস্ট কেলেঙ্কারির ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি গোলাম মোস্তফা রাসেল সমকালকে বলেন, জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা সব দোষ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। এর আগে তেজগাঁও থানা হেফাজতে থাকাকালে আরিফ সব দায় তার চিকিৎসক স্ত্রীর ওপর চাপিয়েছিলেন। কিন্তু করোনার ভুয়া টেস্টের মতো ঘটনায় দোষীদের শনাক্ত করতে সব বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া দরকার। এ জন্যই আরিফকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আগেই তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. সাবরিনা।
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, বুধবার রাতে তাদের প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মুখোমুখি করে বেশ কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এখনই স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
তদন্ত সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, করোনা সনদ জালিয়াতির বিষয়ে জেকেজি ও ওই প্রতিষ্ঠানের মূল কোম্পানি ওভাল গ্রুপের সঙ্গে ডা. সাবরিনা নিজের সম্পৃক্ততা এখনও স্বীকার করছেন না। অবশ্য প্রযুক্তিগত তদন্তে তার দেওয়া বিভিন্ন খুদেবার্তা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার প্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় এসব উপস্থাপন করা হলে সাবরিনা দাবি করছেন, আরিফ তাকে ফাঁসিয়েছেন। আবার আরিফ তার চিকিৎসক স্ত্রীর মাধ্যমে করোনা টেস্টের কাজ পাওয়ার কথা জানিয়ে বলছেন, তার কয়েক কর্মচারী সনদ জালের সঙ্গে জড়িত ছিল। বিষয়টি সাবরিনার জ্ঞাতসারেই হয়েছে। এ জন্য তিনি সাবরিনা এবং কয়েক কর্মচারীকে জেকেজি থেকে বের করে দেন বলেও দাবি আরিফের। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানকে তিনি বহিস্কার করতে পারেন কিনা সে প্রশ্নের জবাবে নিশ্চুপ থাকেন তিনি।
ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, আরিফ সনদ জালিয়াতির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে তার চাকরিচ্যুত কর্মচারী সাবেক গ্রাফিক ডিজাইনার হুমায়ুন কবীর হিরু ও তার স্ত্রী জেকেজির নার্স এবং মাঠ সমন্বয়ক তানজীন পাটোয়ারীকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, নানা অনিয়মের অভিযোগে চাকরিচ্যুত করার পর তারা ওয়েবসাইট খুলে ভুয়া সনদ দেওয়ার ব্যবসা শুরু করে। নিজেরা বাঁচতে জেকেজির ওপর দোষ চাপিয়েছে। প্রয়োজনে তাদেরও নতুন করে রিমান্ডে আনা হতে পারে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সাবরিনা ও আরিফের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। তাদের কাজ পাইয়ে দিতে যারা সহযোগিতা করেছে তারা কেউ এখান থেকে লাভবান হয়েছেন কিনা সেটাও যাচাই করা হচ্ছে। জড়িত থাকলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
করোনা পরীক্ষার সনদ জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৩ জুন জেকেজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক চৌধুরীসহ ছয় কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা হওয়ার পর ২৪ জুন নমুনা পরীক্ষার জন্য জেকেজির অনুমতি বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পুলিশি তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে করোনা সনদ জালিয়াতিতে ডা. সাবরিনার নাম আসে। গত ১২ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে ১৩ জুলাই তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। শুরুর দিকে ওই মামলাটি তেজগাঁও থানা পুলিশ তদন্ত করলেও তা এখন ডিবি তদন্ত করছে।
- বিষয় :
- মুখোমুখি সাবরিনা-আরিফ