সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের নবম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫ | ১৮:৫০
উপজেলা বা থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদকে দশম থেকে নবম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন এ পদে কর্মরতরা। শনিবার দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এ দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। বাংলাদেশ সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য সচিব আল আমিন হাওলাদার।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৯৪ সালে সংশোধিত নিয়োগবিধি অনুযায়ী পদটি দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়। দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদটি দশম গ্রেডেই অপরিবর্তিত রয়েছে। যা আমাদের জন্য সত্যি হতাশাব্যঞ্জক ও বৈষম্যমূলক বলে আমরা মনে করি।
এতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি তৎকালীন ১৭তম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষক পদটি ১৮তম গ্রেডে ছিল। প্রধান শিক্ষক পদটি কয়েক দফায় উন্নীত হয়ে ২০১৪ সালে ১১তম গ্রেডে এবং সম্প্রতি উচ্চতর আদালতের রায়ে দশম গ্রেডে উন্নীত করার সব প্রক্রিয়া সমাপ্তের পথে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমানে উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমোদিত পদসংখ্যা ২ হাজার ৬২৯টি এবং এই পদের অব্যবহিত ঊর্ধ্বতন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পদসংখ্যা ৫১৬টি। উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পদ সংখ্যা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পদ সংখ্যার পাঁচগুণেরও বেশি। বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদের ৫০ শতাংশ হিসাবে মাত্র ২৫৮টি পদে অর্থাৎ প্রতি ১০ জনে ১ জন পদোন্নতির সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর যাবত একই পদে চাকরি করছেন, এমনকি অধিকাংশ কর্মকর্তা একই পদে থেকে অবসরে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি দশম গ্রেডে উন্নীতকরণের জন্য আদালত চূড়ান্ত রায় দেন। সেই আলোকে প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীতকরণে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কিন্তু একজন উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অধীন প্রায় ৩০ জন দশম গ্রেডভুক্ত প্রধান শিক্ষক এবং ১৬০-২০০ জন ১৩তম গ্রেডভুক্ত সহকারী শিক্ষক থাকেন। এই শিক্ষকদের প্রশাসনিক ও একাডেমিক তত্ত্বাবধান, মেন্টরিং, মনিটরিং, এসিআর ও ছুটি প্রদানকারী কর্মকর্তা হলেন উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। এক্ষেত্রে উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং প্রধান শিক্ষক একই গ্রেড হওয়ায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ পদটি নবম গ্রেডে উন্নীত করা একান্ত প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদটি নবম গ্রেডে উন্নীত করা হলে সরকারের তেমন আর্থিক সংশ্লিষ্টতা এবং বাড়তি বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না। কারণ এই পদে বর্তমানে কর্মরত ১ হাজার ৭২৭ জনের মধ্যে মাত্র ২৬৭ জন কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কর্মকর্তারা দশম গ্রেড থেকে উচ্চতর গ্রেড/টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড পেয়ে ইতোমধ্যে সপ্তম, অষ্টম ও নবম গ্রেডে বেতন-ভাতাদি প্রাপ্ত হচ্ছেন। এই পদটি নবম গ্রেডে উন্নীতকরণ হলে শুধু ২৬৭ জনের আর্থিক প্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকবে।
এতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণকল্পে এবং যৌক্তিক বিবেচনায় গ্রেড দশম থেকে নবম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিব, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও সিনিয়র সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এসময় আহ্বায়ক মুহাম্মদ মিলন মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামসহ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
