স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠাসহ ৫ দফা দাবি শিক্ষকদের
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২২:৪০
স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠাসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সারাদেশের ৬৪ জেলায় একযোগে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও এন্ট্রি পদ নবম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ। এর আয়োজনে ছিল বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের আহ্বায়ক ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা, নরসিংদীর জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল খালেক, ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মজিদ, সরকারি ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক সিকান্দার আলী খান, শিক্ষক নেতা শাহাবুদ্দিন মাহমুদ সালমী, আব্দুস সালাম, মো. ওমর ফারুক, আসাদুজ্জামান নূর, শহীদুল্লাহ্ সাঈদ, আল মাসুম লিয়েন প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০০৩ সালের জাতীয় শিক্ষা কমিশন এবং ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে মাধ্যমিকের জন্য আলাদা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার সুপারিশ থাকলেও গত ১৫ বছরে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার। বরং কলেজভিত্তিক নীতির কারণে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রশাসন ও শিক্ষকরা বঞ্চিত হয়েছেন।
তারা অভিযোগ করেন, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার জন্য আলাদা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হলেও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়ন হয়নি। অথচ শিক্ষা প্রশাসনের সংস্কার পরিকল্পনা, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন এবং সাম্প্রতিক জাতীয় কর্মশালার সুপারিশে পৃথক মাধ্যমিক অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয়তা বারবার উঠে এসেছে।
শিক্ষক নেতৃবৃন্দ তাদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো, ১. অবিলম্বে স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা ও গেজেট প্রকাশ। ২. সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ নবম গ্রেডে উন্নীতকরণ এবং কলেজের মতো চার স্তরীয় একাডেমিক পদসোপান বাস্তবায়ন। ৩. আঞ্চলিক উপপরিচালকের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা সংরক্ষণ এবং মাধ্যমিকের স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা রক্ষা। ৪. বিদ্যালয়ের পরিদর্শন শাখার সব শূন্য পদে পদোন্নতি ও পদায়ন। ৫. প্রায় ছয় হাজার শিক্ষকের বকেয়া সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল মঞ্জুরি।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা ঘোষণা দেন—৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সারাদেশের ৬৪ জেলায় একযোগে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করা হবে। একই দিনে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হবে।
তাদের বক্তব্য হলো, প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যে পৃথক মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। এখন শুধু গেজেট প্রকাশ বাকি। কিন্তু একটি মহল তা আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা ‘অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক’।
