ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার নীতিগত অনুমোদন

সিটি করপোরেশন হচ্ছে সাভার, কেরানীগঞ্জ পৌরসভা

সিটি করপোরেশন হচ্ছে সাভার, কেরানীগঞ্জ পৌরসভা
×

ফাইল ছবি

 দেলওয়ার হোসেন

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৪৬ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৫ | ০৯:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আগ্রহে ঢাকার সাভার উপজেলা সিটি করপোরেশন এবং কেরানীগঞ্জ হচ্ছে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেন তিনি। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে নির্দেশ দেয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। নির্দেশনা পেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ১২ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) মোহাম্মদ খালেদ হাসান সমকালকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সবকিছু ঠিক থাকলে এটি হবে; না হলে নয়। এখনও বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ চলছে।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) প্রতিষ্ঠা বিধিমালা-২০১০ অনুযায়ী, কোনো নতুন সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার জন্য বিদ্যমান পৌর এলাকার জনসংখ্যা ন্যূনতম চার লাখ হতে হবে। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ন্যূনতম তিন হাজার, স্থানীয় আয়ের উৎস বার্ষিক ন্যূনতম পাঁচ কোটি টাকা, প্রস্তাবিত এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান থাকতে হবে এবং তা বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে হবে। প্রস্তাবিত এলাকার ভৌত অবকাঠামোগত সুবিধাদি থাকতে হবে, যা ভবিষ্যতে সম্প্রসারণ করা যাবে। বিদ্যমান পৌরসভার বার্ষিক আয় ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা, প্রস্তাবিত এলাকায় সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে স্থানীয় জনমত অনুকূলে থাকা, আয়তন ন্যূনতম ২৫ বর্গকিলোমিটার হতে হবে।

শর্তপূরণের যোগ্যতা থাকায় সাভার পৌরসভা ও আশুলিয়া অঞ্চল মিলে সাভার সিটি করপোরেশন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বিভাগীয় কমিশনারের গোপনীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন শুরু করে সরকার। এর ফলে সাভার পৌরসভা ও আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বিলুপ্ত হবে। অন্যদিকে কেরানীগঞ্জকে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা অথবা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব (নগর উন্নয়ন-১ ও ৩ অধিশাখা) আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান সমকালকে বলেন, সাভারকে সিটি করপোরেশন করার বিষয়ে অনেক কাজ মনে হয় আগেই করা। এখন এটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী এখন বাকি কাজ করতে হবে।

সাভারের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়, অপরিকল্পিত শিল্পকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র এবং জনসংখ্যার চাপ মিলে সাভার বিশাল নগর এলাকায় পরিণত হয়েছে। সাভার পৌরসভা থাকলেও তা নাগরিক চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। পৌরসভার সীমিত সম্পদ ও জনবল দিয়ে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার নাগরিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সাভারের আশুলিয়া অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক পোশাক শিল্প, শ্রমিকের জন্য বসতি ও আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে। আশুলিয়া এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে পরিকল্পিত নগরায়ণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুবিধা, নিরাপদ পানি সরবরাহ কিংবা পরিবেশ সংরক্ষণের মতো নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার সক্ষমতা ইউনিয়ন পরিষদের নেই। ফলে সাভার ও আশুলিয়া এলাকার জনগণকে যানজট, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে কেরানীগঞ্জের বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা শহরের প্রসার ও জনসংখ্যার চাপে কেরানীগঞ্জ উপজেলা অপরিকল্পিতভাবে দ্রুত নগরায়ণের মুখোমুখি হচ্ছে। পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠান না থাকায় সড়ক, ড্রেনেজ, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কিংবা স্বাস্থ্য সেবার মতো মৌলিক নাগরিক সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম হলে রাজধানীর পাশে একটি আধুনিক ও প্রাণবন্ত উপশহর হিসেবে গড়ে উঠতে পারে কেরানীগঞ্জ।

ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, এ সিদ্ধান্তে সাভার এবং কেরানীগঞ্জের নাগরিকদের সুবিধা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা যাবে। মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কিছুটা হলেও দূর হবে। রাজধানীর ওপর চাপ কমবে। সব কিছু বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত কাজটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

বগুড়া সিটি করপোরেশনের ঘোষণা ডিসেম্বরে
আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়াকে ‘সিটি করপোরেশন’ ঘোষণা করা হতে পারে। এজন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে কাজ করছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব বলেন, বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি সিটি করপোরেশন এখন বাস্তবায়নের পথে। সরকারি রাজস্ব নিয়ে বহু আগেই সিটি করপোরেশনের শর্ত পূরণ করেছে এ পৌরসভা। পাঁচ কোটি টাকা কর আদায় করতে পারলেই যেকোনো পৌরসভা যোগ্যতা রাখে সিটি করপোরেশন হওয়ার। বগুড়া পৌরসভায় ৪০ কোটি টাকার বেশি কর আদায় হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×