ফয়সালকে পালাতে সহায়তা করা রাজুসহ দুজন গ্রেপ্তার
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:২০
| প্রিন্ট সংস্করণ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় জড়িতদের পালাতে সহায়তাকারী আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবির মতিঝিল জোনাল টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। এ নিয়ে মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
গ্রেপ্তারের পর গতকাল সন্ধ্যায় রাজুকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মতিঝিল জোনাল টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) কাইউম হোসেন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, আসামি রাজু মামলার মূল আসামি ফয়সালকে সীমান্তে আত্মগোপনে সহায়তা করছে। এ জন্য রাজুর সঙ্গে পলাতক আরেক আসামি ফিলিপের ফোনে কথা হয়। যে মোবাইল ফোনে কথা বলেছে, সেটি জব্দ করা হয়েছে। যেখানে সে মেসেজ দিয়ে ফয়সাল পালিয়ে গেছে বলে তথ্য ঘোলাটে করে দেয়। যাতে ফয়সাল না পালিয়ে দেশে থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার না করা যায়। এসব ব্যাপারে তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য এ আসামির সর্বোচ্চ রিমান্ড চাই।
এদিন আমিনুলের রিমান্ড শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে বিচারক বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের এক দিন পরে কেন নিয়ে আসলেন? আসামিকে কি পার্লারে নিয়ে সাজিয়ে এনেছেন? এসব ব্যাড প্র্যাকটিস বাদ দেন। শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট পল্টন থানার জিআরও প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই ও সিএমএম হাজতের ওসিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। পাশাপাশি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে আসামিকে দেরিতে নিয়ে আসার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলেছেন।
এর আগে বুধবার সকালে হাদি হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চালক আলমগীরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত হিমন রহমান শিকদারকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা জানান, হিমন রহমান নামে ওই যুবককে আদাবর এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পরেই হিমনকে নিয়ে আদাবর এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। সেখানে তার দেওয়া তথ্যে একটি বিদেশি পিস্তলসহ তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। ওই আবাসিক হোটেলে হিমন আত্মগোপনে ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি, হাদিকে হত্যার জন্য যে মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটির চালক আলমগীরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিমন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীরের সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা জানান, মিরপুর-১১ থেকে গ্রেপ্তার আমিনুল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নিকটাত্মীয়। হাদিকে গুলি করার পর যুবলীগ নেতা বাপ্পী যোগাযোগ করে আমিনুলের সঙ্গে। তাকে ফিলিপ স্নালের নম্বর দিয়ে সন্দেহভাজন মানব পাচারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে। আমিনুলকে জরুরি ভিত্তিতে ফোন করতে বলার নির্দেশ দেয় বাপ্পী।
ফিলিপ স্নালের বিরুদ্ধে হাদি হত্যায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ এবং তার সহযোগী আলমগীরকে দেশ ছাড়তে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় আত্মগোপনে রয়েছে ফিলিপ। বাপ্পীর নির্দেশ অনুযায়ী আমিনুল ফিলিপের কাছে পাঁচ হাজার টাকা পাঠায়।
- বিষয় :
- শরিফ ওসমান হাদি
