ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রাজধানীর একাংশে সড়ক ছিল ফাঁকা, অন্য অংশে ভিড়

যানবাহন সংকটে দুর্ভোগ

রাজধানীর একাংশে সড়ক ছিল ফাঁকা, অন্য অংশে ভিড়
×

ছবি : সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৫:০৬

 

রাজধানীর একাংশে সড়ক ছিল প্রায় ফাঁকা, যান চলাচল খুবই কম; অন্য অংশে সড়ক ছিল হাজার হাজার মানুষের দখলে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও গণসংবর্ধনা উপলক্ষে নেতাকর্মীদের ভিড় ছিল বিমানবন্দর-তিনশ ফুটসহ সংলগ্ন সড়কগুলোয়। আর ফার্মগেট, শাহবাগ, পল্টন, মতিঝিলের মতো এলাকার সড়কে লোকজনের উপস্থিতি ছিল কম।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান সমকালকে বলেন, খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ছিল ছুটি। এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে তিন দিনের বন্ধ। এ কারণে অনেকে ঢাকার বাইরে চলে গেছেন। তাই ঢাকায় গণপরিহন চলাচল কিছুটা কম।

সরেজমিন দেখা যায়, মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, ফার্মগেট, মগবাজার, ধানমন্ডি, মিরপুর সড়ক, সাত মসজিদ সড়কে গণপরিবহন তেমন নেই। মেট্রোরেলেও যাত্রী ছিল কম। আবার নানা প্রয়োজনে যারা সড়কে নেমেছিলেন, তারা পড়েন পরিবহন সংকটে। বিভিন্ন গন্তব্যের বাস পেতে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। সুযোগ বুঝে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাচালকরা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছিলেন।

মেট্রোরেলের শাহবাগ স্টেশনে দায়িত্ব পালন করা আনসার সদস্য শুভাশীষ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মেট্রোরেলে যাত্রী অনেকটা কম ছিল। দুপুরের দিকে যাত্রী কিছুটা বাড়লেও তা সাধারণ দিনের তুলনায় কম।

এর বিপরীত চিত্র ছিল বিমানবন্দরমুখী সড়কে। সকাল থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের খণ্ড খণ্ড মিছিল যায় পূর্বাচলের দিকে। এ কারণে বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার সড়কগুলোয় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রামপুরায় বিটিভি ভবনের সামনেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে কুড়িলমুখী যানবাহন ঘুরিয়ে দেয়। ফলে সেখান থেকেই হাঁটতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। সড়কের কিছু অংশে সিএনজি-রিকশার মতো ছোট যানবাহন চললেও সেগুলো নেতাকর্মীদের ভিড়ের কারণে বেশিদূর যেতে পারছিল না। 

অন্যদিকে মহাখালী-বনানী থেকে বিমানবন্দরমুখী সড়কেও ছিল একই চিত্র। যানবাহন নিয়ে এগোতে না পারায় মিছিল নিয়ে হেঁটেই যাচ্ছিলেন নেতাকর্মীরা। কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় সমবেত হয়েছিলেন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। তাদের কেউ কেউ সমাবেশস্থল পূর্বাচলের দিকেও অগ্রসর হন। বাকিরা অবস্থান নেন বিমানবন্দর সড়ক ও তিনশ ফুট সড়কে। 

এদিকে যান চলাচল কার্যত বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ পড়েন দুর্ভোগে। বিভিন্ন স্থানে যেতে অনেকে হেঁটেই রওনা হন। কেউ কেউ রিকশা নিয়ে মূল সড়কের বদলে অলিগলি দিয়ে গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছার চেষ্টা করেন। বেশির ভাগকেই কিছুটা হেঁটে, কিছুটা রিকশায় এভাবে ভেঙে ভেঙে এগোতে হয়। 

বাড্ডার প্রগতি সরণি এলাকায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যানবাহনের অপেক্ষায় ছিলেন মুদি দোকানি আজিজুর রহমান। তিনি জানান, গুলিস্তানে যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়েছেন। কিন্তু কোনো যানবাহন পাচ্ছেন না। তাই হেঁটেই রওনা দিয়েছেন। রামপুরা ব্রিজ থেকে যানবাহন পাওয়ার আশায় এগোচ্ছিলেন তিনি। 

আরও পড়ুন

×