প্রশ্নবাণে জর্জরিত তদন্ত কর্মকর্তা
আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর ঘটনা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০:৩৯
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শেষ হয়েছে। জেরায় আশুলিয়া থানায় ‘লাশ মামুন’ ও ‘ভায়রা মামুন’ নামে কোনো কনস্টেবল ছিলেন কিনা তা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চান এক আসামির আইনজীবী। সোমবার দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জেরার সময় তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
জেরার একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তার উদ্দেশে আশুলিয়া থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক ও কনস্টেবল মুকুল চোকদারের আইনজীবী আবুল হাসান বলেন, আপনি প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অব্যবহিত পরের পত্রিকা দাখিল করেননি। জবাবে তা সত্য নয় বলে জানান জানে আলম খান।
আবুল হাসান প্রশ্ন করেন, এ মামলায় তদন্তকালে আশুলিয়া থানায় কর্মরত কনস্টেবল আবদুল হক, কনস্টেবল লাশ মামুন, ভায়রা মামুন, এএসআই জাকারিয়া, সমন ডিউটিকারী কনস্টেবল জুয়েল নামীয় লোকদের কোনো অস্তিত্ব পেয়েছেন কিনা। জবাবে জানে আলম বলেন, আমি তদন্তকালে এসব নামীয় লোকদের অস্তিত্ব পাইনি। ঠিক তখনই পুলিশ কনস্টেবলদের ডিউটি চার্ট জব্দ করেছেন কিনা জানতে চান আইনজীবী। তবে ডিউটি চার্ট জব্দ করেননি বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।
এ পর্যায়ে প্রসিকিউশনের দাখিল করা একটি ভিডিও প্রদর্শনের জন্য অনুরোধ করেন আবুল হাসান। তখন ট্রাইব্যুনালে এক মিনিট ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও দেখানো হয়। ভিডিওটির ৬ সেকেন্ডে যে ব্যক্তিকে আরেকজনের সহায়তায় একটি লাশ চ্যাংদোলা করে তিন চাকার ভ্যানে তুলতে দেখা যায়, সেই ব্যক্তির পুলিশ ভেস্টের নিচে হাফ হাতা হালকা আকাশি শার্ট ও ছাই রঙের প্যান্ট দেখা যায়। তার পায়ে ছিল কালো জুতা। ভিডিও প্রদর্শন শেষে এ ধরনের পোশাক পরিহিত ব্যক্তি পুলিশ নন বলে দাবি করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। তবে এ দাবি সত্য নয় বলে জানান জানে আলম।
প্রশ্ন ছুড়ে আবুল হাসান বলেন, আপনার দাখিল করা ভিডিও ফুটেজে কি এসআই আবদুল মালেককে দেখা গেছে। তাকে দেখা যায়নি বলে জবাব দেন মামলার সর্বশেষ এই সাক্ষী।
সঠিকভাবে তদন্ত করলে মালেক ও মুকুলের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতেন না বলে উল্লেখ করেন আইনজীবী। এরপর সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ পলাতক তিনজনের পক্ষে জেরা করেন আইনজীবী সুজাদ মিয়া। এদিন প্রথমেই তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন আসামি শাহিদুল ইসলামের আইনজীবী আসাদুজ্জামান বাবু। জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ১৬ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন আটজন। এদিন তারা ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন।
