ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাবেক কমিশনার জহুরুল হককে ৩ ঘণ্টা দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

সাবেক কমিশনার জহুরুল হককে ৩ ঘণ্টা দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ
×

ছবি: ফাইল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২:৪২ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২:৪৪

মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ঢাকার অদূরে পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের ১০ নম্বর সেক্টরে প্লট নেওয়া ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ক্ষামতার করে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আজ দুদক পরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভূঞা ঢাকায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে তাকে টানা ৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় অভিযোগের নানা বিষয়ে তার স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম। 

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দুদক কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুর দেড়টার দিকে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। ওই সময় সাংবাদিকরা কেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করো হলো- এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি। 

জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সাবেক কমিশনার জহুরুল হক ও তার স্ত্রীর নামে রাজউকের পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের প্লট বরাদ্দ নেওয়া বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিটিআরসিতে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে তার অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়েও নানা প্রশ্ন করা হয় দুদকের পক্ষ থেকে। 

জহুরুল হকের স্ত্রী ২০১২-১৩ সালে রাজউকের একটি প্লট বরাদ্দ পেয়েছিলেন। জহুরুল হক ২০১৪ সালে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তার স্ত্রীর নামে প্লট থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেননি। এই বিষয়ে তিনি দুদককে বলেছেন, বিষয়টি তার নজরে ছিল না এবং খেয়াল না করায় ওই তথ্যগত ভুল হয়েছে। দেশের বড় দুটি টেলিফোন অপারেটরের কাছ থেকে বিপুল অংকের গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে দুদকের সাবেক ওই কমিশনারের বিরুদ্ধে। 

আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট ও রেভিনিউ শেয়ার বেআইনিভাবে কমিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগে জহুরুল হকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গত ৩ ডিসেম্বর মামলা করেছে দুদক। জহুরুলের পাসপোর্ট বাতিল করে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে। 

সাবেক জেলা ও দায়রা জজ জহুরুল হক বিডিআর হত্যা মামলার বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে তিনি অবসরে যান। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাকে বিটিআরসির কমিশনার এবং পরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ১০ মার্চ কমিশনার হিসেবে দুদকে যোগ দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি দুদক থেকে পদত্যাগ করেন। দুদক পরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভূঞার নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম অভিযোগটি অনুসন্ধান করছে।

আরও পড়ুন

×