ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন চূড়ান্ত না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

সংবাদ সম্মেলনে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট

পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন চূড়ান্ত না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
×

জাতীয় প্রেসক্লাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সংবাদ সম্মেলন

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৫:৪৬ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৬:১৯

৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন বিলম্বে অসন্তোষ প্রকাশ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনে জোটের প্রধান নেতা অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজি বলেন, ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ৫ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী মানববন্ধন এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ আজীজি বলেন, ২০০৯ সালে ৭ম পে-স্কেল ঘোষিত হওয়ার পর ২০১৫ সালে ৮ম পে-স্কেল জারি হয়। কিন্তু এরপর টানা ১১ বছরেও নতুন পে-স্কেল ঘোষিত হয়নি। অথচ এই সময়ে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী দু’টি নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কথা ছিল। 

‌‘এই অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রতায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার ব্যাহত হয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার দ্রুত পে-স্কেল প্রজ্ঞাপন জারি না করলে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের স্বাভাবিকতা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন কাঠামো সংস্কারের লক্ষ্যে গত বছরের ২৭ জুলাই গঠিত হয় জাতীয় বেতন কমিশন–২০২৫। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে গঠিত এই কমিশন ইতোমধ্যে চাকরিজীবী ও বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির মতামত গ্রহণ করেছে। অনলাইন প্রশ্নমালা থেকে শুরু করে আমলাতান্ত্রিক, বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে কমিশন মাঠপর্যায় থেকে প্রস্তাব সংগ্রহ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটও ৬ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর প্রতিনিধিত্ব করে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয় এবং তাদের প্রস্তাব কমিশনের হাতে তুলে দেয় বলে জানান নেতা।

অধ্যক্ষ আজীজি অভিযোগ করে বলেন, ‘পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির বিরুদ্ধে নানা মহল থেকে ষড়যন্ত্র চলছে। যাদের এ বিষয়ে মত দেওয়ার এখতিয়ার নেই, তারাও অহরহ নেতিবাচক মন্তব্য করে পরিবেশ বিভ্রান্ত করছে।’ বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গভর্নরের অবিবেচক মন্তব্যে জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা তার মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, বেতন কমিশন গঠনের পরই বাজারে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি দেখা গেছে। নতুন পে-স্কেল ছাড়া বর্তমান বেতনে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না করা হলে কমিশন গঠনে রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করার যৌক্তিকতা কী? প্রশ্ন তোলেন তিনি। জোটের ধারণা, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে প্রজ্ঞাপন না হলে আগামী পাঁচ বছরও তা জারি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

সংবাদ সম্মেলনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সংখ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সবচেয়ে বড় পেশাজীবী গোষ্ঠী। আমাদের পরিবার মিলিয়ে অর্ধকোটি মানুষ এই বেতন কাঠামোর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। 

তিনি দাবি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ না হলে বঞ্চনা দূর হবে না। রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী ইশতেহারে এ দাবিকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বানও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম আহ্বায়কদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মাধ্যমিক কারিগরি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. মতিউর রহমান, বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক মো. নুরুল আমিন হেলালী, সভাপতি মো. মিজানুর রহমান এবং বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হাবিবুল্লাহ রাজু।

আরও পড়ুন

×