ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ডিক্লারেশন প্রত্যাহার

গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ পাবে

গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ পাবে
×

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪০ | আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৯:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের যে অনুচ্ছেদে ‘ডিক্লারেশন’ ছিল বাংলাদেশের– তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার নিশ্চিত হবে। বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ ডিক্লারেশন প্রত্যাহারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

মূল কনভেনশনের ১৪(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি যাতে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পায়; সম্ভব হলে পুনর্বাসনও নিশ্চিত করবে প্রতিটি রাষ্ট্র। যদি নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির মৃত্যু হয়, তাহলে তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণের অধিকার পাবে।

বাংলাদেশের ডিক্লারেশনে বলা ছিল, দেশের বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সঙ্গে সংগতি রেখে অনুচ্ছেদ ১৪ (১) প্রয়োগ করবে সরকার। নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে কনভেনশনটি ১৯৮৪ সালে গৃহীত হয়, যাতে বর্তমানে ১৭৩টি রাষ্ট্রের অনুসমর্থন আছে। বাংলাদেশ এ চুক্তিতে অনুসমর্থন করে ১৯৯৮ সালে।

কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১৪(১)-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র ডিক্লারেশন ও রিজার্ভেশন দিয়েছিল। বাংলাদেশের সেই ডিক্লারেশনের কারণে এতদিন রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায্য ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল না।

আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ‘ডিক্লারেশন’ হলো চুক্তির ধারা সম্পর্কে রাষ্ট্রের নিজস্ব ব্যাখ্যা বা সুস্পষ্ট অবস্থান। ‘রিজার্ভেশন’ হলো নির্দিষ্ট ধারা মানতে অসম্মতি জানানো বা তা পরিবর্তনের শর্ত। তার মানে চুক্তি করলেও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সব ধারা তার ওপর প্রযোজ্য হবে না বা কিছু ধারা সংশোধিতভাবে প্রযোজ্য হবে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলেছে, ডিক্লারেশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ সুগম হচ্ছে। নির্যাতনে ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটলে, তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরাও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন।
বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীরা দুই দশক ধরে এ ডিক্লারেশন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘উপদেষ্টা পরিষদ মনে করে, এই সিদ্ধান্ত একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এতে মানবাধিকার সংরক্ষণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।’

শিশুসংক্রান্ত কনভেনশনে যোগদান
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশকে ১৯৮০ সালের ‘হেগ কনভেনশন অন দ্য সিভিল অ্যাসপেক্টস অব ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাবডাকশন’-এর পক্ষভুক্ত করার প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় দেড় কোটির মতো বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। অনেকেই অন্য দেশের নাগরিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সুস্পষ্ট আইন না থাকায় তাদের কোনো কারণে বিচ্ছেদ (সেপারেশন) হলে সন্তানের কাস্টোডি নিয়ে অসুবিধা তৈরি হয়। এই প্রস্তাব অনুমোদনের ফলে বিচ্ছেদের পর সন্তানের ভরণপোষণ বা সন্তানের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে অসুবিধা এড়ানো যাবে। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৈঠকে ছয়টি অধ্যাদেশ, তিনটি প্রস্তাব এবং একটি নীতি আদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

গায়ানায় নতুন কূটনৈতিক মিশন
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গায়ানার রাজধানী জর্জটাউনে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বা ফার্স্ট সেক্রেটারি পর্যায়ের একটি নতুন কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশন থেকে প্রয়োজনীয় জনবল সরবরাহ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, গায়ানা বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশগুলোর একটি। গত বছর দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ। দেশটিতে শ্রমবাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় অর্থনৈতিক ও জনশক্তি সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন

×