আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর মামলা
সাবেক এমপিসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড
সাবেক ডিআইজি নুরুল ইসলামসহ ৭ জনের যাবজ্জীবন, রাজসাক্ষীকে ক্ষমা
আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানো ও হত্যা মামলার রায়ের পর গতকাল হাজতখানায় নেওয়ার সময় চিৎকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করতে থাকেন সাবেক এসআই আবদুল মালেক সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:৩৫ | আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
সাভারের আশুলিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি পলাতক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলার অপর ৭ আসামিকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। দুইজনকে ৭ বছর কারাদণ্ড এবং এক আসামি সাবেক এসআই রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করা হয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি দুই বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটাই প্রথম রায়।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত অপর ৫ আসামি হলেন– আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এএফএম সায়েদ রনি (পলাতক), সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা (পলাতক), স্থানীয় যুবলীগ ক্যাডার (পলাতক) রনি ভুঁইয়া, কারাগারে থাকা সাবেক এসআই আবদুল মালেক ও কনস্টেবল মুকুল চোকদার।
যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন– পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম (পলাতক), ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফি, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম, ডিবির সাবেক ইন্সপেক্টর আরাফাত হোসেন আরজু, সাবেক পরিদর্শক মাসুদুর রহমান (পলাতক), সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন (পলাতক) ও সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস (পলাতক)। এ ছাড়া আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দিন ও এএসআই কামরুল হাসানকে সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এদিন দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন কনিষ্ঠ বিচারক। পরে দ্বিতীয় বিচারক রায় পড়েন। এরপর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান প্রত্যেক আসামির সাজা ঘোষণার মধ্য দিয়ে রায় পড়া শেষ করেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামের যাবতীয় সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তাঁর সব সম্পত্তি বিক্রি করে সে অর্থ ভুক্তভোগীদের পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে। দণ্ডিত বাকি আসামির কয়েকজনকে এক লাখ, কয়েকজনকে ৫০ হাজার এবং দুজনকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এ মামলায় মোট ১৬ আসামির মধ্যে ৮ জন পলাতক। গ্রেপ্তার থাকা বাকি ৮ আসামিকে এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়। তাদের উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত রায় পড়েন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। গত ১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল-২।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন– সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
রায় ঘোষণার পর প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আদালতের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, ‘হিটলারের গ্যাস চেম্বারের পরে এই ধরনের ব্রুটালিটি খুব কম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং একজন এমপির নেতৃত্বে মানুষকে হত্যা ও তারপর তাদের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লাশগুলো বিকৃত করা হয়েছে; স্বজনরা তাদের লাশ চিনতে পারেনি। একজন জীবিত ছিল; তাকেও পোড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ তারা তাদের এই হত্যাকাণ্ড, নৃশংসতাকে গোপন করার জন্য এ ধরনের অপকর্ম করেছিলেন। আধুনিক প্রযুক্তি এবং স্থানীয় সাংবাদিক, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তাদের ভিডিও প্রকাশের কারণেই এই তথ্যগুলো আমাদের সামনে আসছে, যার কারণে তাদের বিচারের আওতায় আনতে পেরেছি। ওই এলাকায় আরও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যেটার তদন্ত অব্যাহত আছে।’
- বিষয় :
- বিচার শুরু
