নতুন সরকারের শপথ
বড় মন্ত্রিসভায় শুরু তারেক রহমানের
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এএফপি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৩১ | আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৫৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
খোলা আকাশ, উন্মুক্ত মঞ্চ, হাজারখানেক দেশি-বিদেশি অতিথি; দূরে নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে আসাদগেট থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে মণিপুরিপাড়াসংলগ্ন রাস্তা, ফুটপাতে বিপুল কর্মী-সমর্থকের উচ্ছ্বাস। এমন পরিবেশে রাজধানীতে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় গতকাল মঙ্গলবার পড়ন্ত বিকেলে (৪টা ১২ মিনিট) শপথ নিল বাংলাদেশের নতুন সরকার। টিভির পর্দা, অনলাইন কিংবা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে কোটি চোখ সাক্ষী হলো বঙ্গভবনের জমকালো দরবার হলের বাইরে প্রথম এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের।
প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। তারপর একে একে ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ান তিনি। এর মাধ্যমে কয়েক দিন ধরে গণমাধ্যমে ছোট বা মাঝারি মন্ত্রিসভার যে জল্পনা ছিল, তার অবসান হয়। সন্ধ্যার পর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হন মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ উপদেষ্টা এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় আরও পাঁচ উপদেষ্টা। সামনে আরও কয়েকজন বিশেষ সহকারী নিয়োগের জল্পনা সত্যি হলে সরকারের কলেবর বেশ বড়ই হবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল সকালে এমপি হিসেবে শপথ নেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিকেলে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। সাদা জামা ও স্ট্রাইপের কালো কোট পরিহিত তারেক রহমানকে শপথের সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল।
বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে মন্ত্রী এবং ৪টা ২৬ মিনিটে প্রতিমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে শপথ নেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। প্রথমে নির্বাচনে বিজয়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বেলা সাড়ে ১১টার পর সংসদীয় দলের সভাকক্ষে বৈঠকে বসেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। ওই বৈঠকে তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়। শপথের পর সংসদের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়ায় নতুন এমপিদের জন্য ছিল চা চক্রের আয়োজন।
দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান সিইসি। জামায়াতের এমপিদের সঙ্গে স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা ও বিএনপির ইশরাক হোসেনও শপথ নেন। সবশেষ দুপুর দেড়টায় তরুণদের নবগঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এমপিরা শপথ নেন।
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এমপিরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে সংবিধানে কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে শপথ নেননি ক্ষমতাসীন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যরা। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
খোলা আকাশ বনাম খোলা মন!
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারি সংস্কার প্রশ্নে গণভোটও হয়। তাতে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়। এ জন্য নতুন এমপিদের সংবিধান সংশোধন পরিষদের সদস্য হিসেবে পৃথক শপথের আয়োজন ছিল। কিন্তু সংবিধানের প্রশ্ন তুলে বিএনপি শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকে। এর পাল্টা হিসেবে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন। তবে পরে এনসিপির কেউ যোগ না দিলেও জামায়াতের আমির অংশ নেন।
সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন শুরুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ হয়।
শপথ অনুষ্ঠানে বিদেশিরা
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার খোলা আকাশের নিচে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময়ে গরমে অনেকে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অতিথিদের অনেকে আসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অনুষ্ঠানস্থলে যথাযথভাবে পানির ব্যবস্থাও ছিল না বলে অনেকে অনুযোগ করেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার (পার্লামেন্ট) স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরী, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমমন্ত্রী ড. নালিন্দা জয়তিস্সাসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন– অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে স্ত্রী-কন্যাসহ বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করলে করতালি দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
শুধু পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে সাধারণত প্রধান প্রধান ধর্মগ্রন্থ থেকে পবিত্র আয়াত ও বাণী পাঠ করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আগে শপথ অনুষ্ঠানগুলোতে পবিত্র কোরআন, পবিত্র গীতা, পবিত্র বাইবেল ও পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ করা হয়েছে। এটি ছিল প্রচলিত রেওয়াজ। অসাম্প্রদায়িক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মূল্যবোধের প্রতিফলন হিসেবে এমন আয়োজন করা হয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে গতকাল নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে শুধু পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর শপথ অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম শুরু হয়।
দায়িত্ব পেলেন যারা
গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তবে বিএনপির ফেসবুক পেজে এ তালিকা পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়; সালাহউদ্দিন আহমেদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; ইকবাল হাসান মাহমুদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়; হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়; আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়; ড. খলিলুর রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট); আবদুল আউয়াল মিন্টু পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়; মিজানুর রহমান মিনু ভূমি মন্ত্রণালয়; নিতাই রায় চৌধুরী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়; খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; আরিফুল হক চৌধুরী শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; জহির উদ্দিন স্বপন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট); আফরোজা খানম বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়; শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়; আসাদুল হাবিব দুলু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; মো. আসাদুজ্জামান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়; জাকারিয়া তাহের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়; দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়; আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়; ফকির মাহবুব আনাম ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; শেখ রবিউল আলম সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়; অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়; মো. শরিফুল আলম বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়; ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভূমি মন্ত্রণালয়; ফরহাদ হোসেন আজাদ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়; মো. আমিনুল হক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট); নুরুল হক নুর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; ইয়াসের খান চৌধুরী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; এম ইকবাল হোসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; এম এ মুহিত স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়; ববি হাজ্জাজ শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়; মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়; হাবিবুর রশিদ সড়ক ও সেতু পরিবহন এবং রেল মন্ত্রণালয়; মো. রাজিব আহসান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়; মো. আব্দুল বারী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়; মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ফারজানা শারমীন নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, শেখ ফরিদুল ইসলাম পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, ধর্ম এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং আমিনুল ইসলাম (টেকনোক্র্যাট) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
মির্জা আব্বাসসহ ১০ জন উপদেষ্টা
গতরাতে মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদসহ ১০ জনকে উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হয়েছেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হলেন– হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ড. জাহেদ উর রহমান, ড. মাহাদী আমিন এবং রেহানা আসিফ আসাদ।
প্রধানমন্ত্রীর পিএস, এপিএস নিয়োগ
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ হয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলী।
মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক আজ বিকেল ৩টায়
আজ বুধবার সচিবালয়ে অফিস করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম কার্যদিবসে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক এবং সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এ ছাড়া আজ বুধবার সকাল ১০টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে ফিরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তিনি অফিস করবেন। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
সভা শেষে সচিবালয়ে দুপুরের খাবার গ্রহণ করে বেলা ৩টায় মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ বৈঠক করবেন। বৈঠকের কোনো এজেন্ডা নেই বলে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।
ভেঙে গেল অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে। গতকাল সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
- বিষয় :
- তারেক রহমান
- মন্ত্রিসভা
- শপথগ্রহণ
