আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনায় বক্তারা
দেশের সব ভাষা সংরক্ষণে উদ্যোগ নিতে হবে
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২২:১৬
আমাদের মাতৃভাষার সংগ্রাম আমাদের অজান্তেই পৃথিবীর সব মাতৃভাষার দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে। যে দেশের মানুষ মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে সেই দেশের অনেক প্রান্তিক ভাষা আজ বিলুপ্তির পথে। দেশের সকল প্রান্তিক ভাষা সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং চর্চার উদ্যোগ নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এডিএসসি কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রান্তিক ভাষাসমূহ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে এর আয়োজন করে বেসরকারি অধিকারভিত্তিক সংস্থা এএলআরডি।
অনুষ্ঠানে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, দেশে আজ অনেক প্রান্তিক ভাষা বিপন্ন। আমাদের দেশের আদিবাসীরাই তাদের মাতৃভাষা হারিয়ে ফেলছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে দেশের সকল মাতৃভাষাকে ধরে রাখতে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা শুধু আর্থিকভাবেই দরিদ্র হচ্ছি না, আমাদের বৈচিত্র্যময় ভাষাগুলো হারিয়ে সাংস্কৃতিকভাবে দরিদ্র হয়ে পড়ছি।
মূল প্রবন্ধে গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, আদিবাসীদের গ্রাম, বাজার ইত্যাদির নাম বদলে ফেলা হচ্ছে। এমনকি বাংলাভাষার আধিক্যের কারণে আদিবাসীদের নিজেদের অনেক ভাষা বদলে যাচ্ছে। আদিবাসীদের সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আচারকে উপেক্ষা করে শুধু ভাষাকে রক্ষা করা কঠিন।
তিনি বলেন, মাতৃভাষায় কথা বলা কোনো পছন্দের বিষয় নয়। এটি তাদের আত্নপরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশে আদিবাসীদের মধ্যে এমন জনগোষ্ঠী আছে যাদের হাতে গোণা কয়জন প্রবীণ মাতৃভাষায় কথা বলে। জাতিগতভাবে প্রান্তিক আদিবাসীদের অনেকের মাতৃভাষা বিলুপ্তির পথে। বিদ্যালয়ে একটি শিশু কোন ভাষায় পড়তে চায় রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ইলিরা দেওয়ান বলেন, দেশের বৈচিত্র্যময় ভাষাগুলোকে জানার কোনো সংস্কৃতি গড়ে উঠেনি ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর নিজের মাতৃভাষা ছাড়া ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। কারণ ভাষার ব্যবহার না হলে তা হারিয়ে যেতে বাধ্য।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহমুদুল সুমন বলেন, উত্তরঔপনিবেশিক কালে ভাষা, ভাষা লিপি ইত্যাদি সংরক্ষণ নিয়ে রাষ্ট্রের কোন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। ভাষা নিয়ে একাডেমিক গবেষণারও উদ্যোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যাযে ভাষা নিয়ে গবেষণা হলে হয়তো প্রান্তিক ভাষাগুলোর বর্তমান অবস্থা জানা যেতে পারে।
আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৪১টি ভাষায় মানুষ কথা বলে। এর মধ্যে প্রায় ৩৭/৩৮টি ভাষা আদিাবসীদের। জাতিসংঘ ২০২২ সালে আদিবাসীদের ভাষার দশক ঘোষণা করলে বাংলাদেশে এ নিয়ে কোন উদ্যোগ নেই।
তিনি বলেন, বাঙলা ভাষায় এত চমৎকার গান, কবিতা, গল্প ছড়িয়ে আছে, একই ভাবে সাওতাল, চাকমা, গারো ইত্যাদি আদিবাসীদের একই রকম গল্প কবিতা আছে। কিন্তু তা কখনো বাংলাভাষাভাষীদের কাছে পৌছাতে পারে না ভাষা না জানার কারণে।
