ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দেশের সব ভাষা সংরক্ষণে উদ্যোগ নিতে হবে

দেশের সব ভাষা সংরক্ষণে উদ্যোগ নিতে হবে
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের ভাষাসংগ্রাম পৃথিবীর সব মাতৃভাষার দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে। যে দেশের মানুষ মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে, সেই দেশের অনেক প্রান্তিক ভাষা আজ বিলুপ্তির পথে। দেশের সব প্রান্তিক ভাষা সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং চর্চার উদ্যোগ নিতে হবে।  

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এডিএসসি কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রান্তিক ভাষাসমূহ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এর আয়োজন করে বেসরকারি অধিকারভিত্তিক সংস্থা এএলআরডি।
অনুষ্ঠানে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, দেশে আজ অনেক প্রান্তিক ভাষা বিপন্ন। আমাদের দেশের আদিবাসীরা তাদের মাতৃভাষা হারিয়ে ফেলছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে দেশের সব মাতৃভাষাকে ধরে রাখতে কাজ করতে হবে। 

তিনি বলেন, আমরা শুধু আর্থিকভাবেই দরিদ্র হচ্ছি না, আমাদের বৈচিত্র্যময় ভাষাগুলো হারিয়ে সাংস্কৃতিকভাবে দরিদ্র হয়ে পড়ছি। 
মূল প্রবন্ধে গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, আদিবাসীদের গ্রাম, বাজার ইত্যাদির নাম বদলে ফেলা হচ্ছে। এমনকি বাংলা ভাষার আধিক্যের কারণে আদিবাসীদের নিজেদের অনেক ভাষা বদলে যাচ্ছে। আদিবাসীদের সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আচারকে উপেক্ষা করে শুধু ভাষাকে রক্ষা করা কঠিন।  
তিনি বলেন, মাতৃভাষায় কথা বলা কোনো পছন্দের বিষয় নয়। এটি তাদের আত্মপরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশে আদিবাসীদের মধ্যে এমন জনগোষ্ঠী আছে যাদের হাতেগোনা কয়েকজন মাতৃভাষায় কথা বলে। জাতিগতভাবে প্রান্তিক আদিবাসীদের অনেকের মাতৃভাষা বিলুপ্তির পথে। বিদ্যালয়ে একটি শিশু কোন ভাষায় পড়তে চায়, রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে। 
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ইলিরা দেওয়ান বলেন, দেশের বৈচিত্র্যময় ভাষাগুলো জানার কোনো সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা ছাড়া ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। কারণ ভাষার ব্যবহার না হলে তা হারিয়ে যেতে বাধ্য। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহমুদুল সুমন বলেন, উত্তর-ঔপনিবেশিক কালে ভাষা, ভাষা লিপি ইত্যাদি সংরক্ষণ নিয়ে রাষ্ট্রের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। ভাষা নিয়ে একাডেমিক গবেষণারও উদ্যোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভাষা নিয়ে গবেষণা হলে হয়তো প্রান্তিক ভাষাগুলোর বর্তমান অবস্থা জানা যেতে পারে। 
আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৪১টি ভাষায় মানুষ কথা বলে। এর মধ্যে প্রায় ৩৭-৩৮টি ভাষা আদিবাসীদের। জাতিসংঘ ২০২২ সালে আদিবাসীদের ভাষার দশক ঘোষণা করলে বাংলাদেশে এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেই। 
তিনি বলেন, বাংলা ভাষায় এত চমৎকার গান, কবিতা, গল্প ছড়িয়ে আছে, একইভাবে সাঁওতাল, চাকমা, গারো ইত্যাদি আদিবাসীদের একই রকম গল্প-কবিতা আছে। কিন্তু তা কখনও বাংলাভাষীদের কাছে পৌঁছাতে পারে না ভাষা না জানার কারণে। 

আরও পড়ুন

×