একাধিক প্যানেল ঘোষণার প্রস্তুতি তৎপরতা শুরু আইনজীবীদের
সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন ১৩ ও ১৪ মে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৩৬
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (এসসিবিএ) বার্ষিক নির্বাচন সামনে রেখে আইনজীবীদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও নির্বাচনে একাধিক প্যানেল ঘোষণার নানা ধরনের প্রক্রিয়া চলছে। গতকাল রোববার এসসিবিএর নির্বাহী কমিটির এক বিশেষ সাধারণ সভায় নির্বাচনের তারিখ আগামী ১৩-১৪ মে পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এর আগে ১১-১২ মার্চ এই নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ওই সময় রমজান এবং জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন থাকায় আইনজীবীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন এবং প্রত্যাহারের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
এসসিবিএ সদস্যরা জানিয়েছেন, সরকারি দল হিসেবে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী প্যানেল নির্বাচনী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটির সমর্থিত আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামতে পারছেন না। ফলে স্বতন্ত্রভাবে অনেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করছেন।
যদিও সূত্র বলছে, এসসিবিএ নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীরা বিচ্ছিন্নভাবে তাদের তৎপরতা শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে দলটি সমর্থিত আইনজীবী নেতারা একাধিকবার বৈঠকও করেছেন। এ বছর সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা নির্বাচন করার চেষ্টা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আইনজীবী মুখ খোলেননি।
সূত্র বলছে, এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। তিনি বলেন, দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কার্যক্রম হচ্ছে না।
২০২৪ সালের ৬-৭ মার্চ সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হয়। ওই নির্বাচনের পর ভোট গণনা দিনে, নাকি রাতে হবে– এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে মারামারি, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেই থেমে যায় ভোট গণনা ও ফলাফল। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত নীল দল থেকে সভাপতি পদে এ এম ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা দল থেকে সম্পাদক হিসেবে শাহ মঞ্জুরুল হক নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বারের সম্পাদক শাহ মঞ্জুরুল হককে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। একইভাবে সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকির, সম্পাদক আব্দুন নুর দুলালসহ অর্ধশতাধিক আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় আইনজীবী দীর্ঘদিন আত্মগোপনে।
সর্বশেষ গত বছরের ১১ আগস্ট সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা বাতিল এবং জামিনের আবেদনের শুনানি চলাকালে হাইকোর্টে হট্টগোল হয়। মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমানসহ প্রায় ৮০ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা হয়। এর পর তারা প্রকাশ্যে আসেননি।
প্রতিবছর সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে পৃথক দুটি প্যানেল থেকে আইনজীবীরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে থাকেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (নীল দল) এবং বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সমর্থিত (সাদা দল) থেকে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে থাকে। এই দুই প্যানেলের বাইরেও আইনজীবীরা বিভিন্ন পদে এককভাবে প্রার্থী হয়ে থাকেন। এ বছর একমাত্র সরকার সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ মাঠে থাকলেও অন্যরা সক্রিয় নন। জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ বছর বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিলের একটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল করার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
- বিষয় :
- আইনজীবী সমিতি
