ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পুঁজিবাজারকে ‘ইমার্জিং মার্কেটে’ রূপান্তরের অঙ্গীকার বিএসইসির নতুন কমিশনের

প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজারকে ‘ইমার্জিং মার্কেটে’ রূপান্তরের অঙ্গীকার বিএসইসির নতুন কমিশনের
×

বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান (ফাইল ছবি)

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ১৮:৩৫ | আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ | ১৮:৪৯

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান দেশের পুঁজিবাজারের আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিসিসি কার্যালয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা তানভীর গণি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) সচিব নাজমা মোবারেক, নবনিযুক্ত তিন কমিশনার আইনজীবী নাহিদ মাহতাব, তানভীর হাবিব রহমান ও নাফিজ-আল-তারিক, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালকরা। 

তিনি জানান, তার মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে কেবল ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী নির্ভর একটি ‘ফ্রন্টিয়ার মার্কেট’ থেকে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী নির্ভর ‘ইমার্জিং মার্কেটে’ রূপান্তর করা। কোনো কৃত্রিম হস্তক্ষেপ বা প্রশাসনিক চাপ নয়, বরং সুশাসন ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের মাঝে হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে এই কমিশনের প্রধান কাজ। যে সমস্ত বিনিয়োগকারী বাজারের আইনকানুন ও শৃঙ্খলা মেনে বিনিয়োগ করবেন তাদের কোনো ভয় নেই বলে জানান তিনি। 

একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যারা আইনকানুন ও শৃঙ্খলা মেনে শেয়ার লেনদেন করবেন না, তাদের ওপর আগের থেকেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া কমিয়ে আনবেন। কোনো শেয়ারে অস্বাভাবিকতা বা কারসাজির তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে অবিলম্বে স্টক এক্সচেঞ্জকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করার ক্ষমতা দেওয়ারও কথা বলেছেন তিনি।

পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষ এবং পূর্ববর্তী কমিশনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ছিল সাবেক কমিশনে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএসইসির শীর্ষ নেতৃত্ব বদলের কথা বলেছেন। দীর্ঘ গুঞ্জন শেষে আজ বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান পদ থেকে খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ চার কমিশনার পদত্যাগ করেন।

৭১ বছর বয়সী অভিজ্ঞ করপোরেট ব্যক্তিত্ব মাসুদ খানকে চেয়ারম্যান করে কমিশন পুনর্গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। আনুষ্ঠানিক যোগদান করে আজ বিকাল ৩টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির কার্যালয়ে আসেন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও তিন কমিশনার। 

ডিজিটালাইজেশন ও স্মার্ট সংস্কার
নতুন কমিশন পুরো পুঁজিবাজার ইকোসিস্টেমকে ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে। আইপিও আবেদন, রাইট ইস্যু এবং সব ধরনের লাইসেন্সিং কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হবে। চেয়ারম্যান জানান, অপ্রয়োজনীয় রিপোর্টিং জটিলতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করা হবে।

ভালো কোম্পানির সরবরাহ বৃদ্ধি
বাজারে ভালোমানের শেয়ারের অভাব দূর করতে বহুজাতিক কোম্পানি, বড় স্থানীয় করপোরেট এবং সফল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে কমিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য বিশেষ কর সুবিধা ও অন্যান্য নীতিগত সহায়তা দিতে ‘লিস্টেড কোম্পানি অ্যাডভান্টেজ প্রোগ্রাম’ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে ভালো কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে উৎসাহিত হয়।

ফ্লোর প্রাইস ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ
চেয়ারম্যান জানান, নীতিগতভাবে তারা ফ্লোর প্রাইসের বিপক্ষে এবং ভবিষ্যতে আর কখনও বাজারে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হবে না। ইনসাইডার ট্রেডিং ও বাজার কারসাজি রোধে রিয়েল-টাইম নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। তিনি সতর্ক করে দেন, যারা বিনিয়োগকারীদের আস্থার অমর্যাদা করবে, তাদের অতীতের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ও শিক্ষা
বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং পেনশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের পেশাদার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেবে কমিশন। পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগকারী শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, এই কমিশনের সাফল্য কেবল ঘোষণায় নয়, বরং বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে পরিমাপ করা হবে। তিনি একটি টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানের পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে বাজারের সকল অংশীজনের সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন

×