যে কোনো প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন যেতে পারবেন কর কর্মকর্তারা
উৎসে কর আদায়ে এনবিআরের নির্দেশনা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১১:৩৬ | আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১১:৪০
উৎসে কর কর্তন ও জমা কার্যক্রমের তদারকি জোরদারে কর কর্মকর্তারা যে কোনো বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ব্যবসা কেন্দ্র বা দপ্তরে বিনা বাধায় প্রবেশ করে সরেজমিন পরিদর্শন করতে পারবেন। এ ধরনের কার্যক্রমে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা অসহযোগিতা করলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭(২) ধারা অনুযায়ী জরিমানা করা হবে। গতকাল রােববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যা জানানো হয়েছে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, কর অঞ্চলগুলোতে বিশেষ দল তৈরি করে সারাদেশে উৎসে কর কর্তন ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, তার নজরদারি কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারণ বিভিন্ন সময় কর কর্মকর্তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঢুকতে চাইলে বা নথি তলব করলে দুপক্ষের মধ্যে ‘অযাচিত ঝামেলা’ তৈরি হয়। এসব ঝামেলা এড়াতে করদাতাদের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতেই এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনবিআরের নির্দেশনায় কর অঞ্চলগুলোর বিশেষ টিম দেশব্যাপী উৎসে কর কর্তন মনিটরিং ও যাচাইকরণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। এ কারণে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারায় কর কর্মকর্তাদের কর্মপরিধি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এনবিআর জানায়, ১৪৭ ধারা অনুযায়ী কর কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের বই, ভাউচার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, রসিদসহ অর্থনৈতিক কার্যক্রম-সংক্রান্ত যে কোনো নথিপত্র পরীক্ষা ও তলব করতে পারবেন। পাশাপাশি কম্পিউটার সিস্টেম, ক্লাউড সার্ভার, ডিজিটাল রেকর্ড বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ভেঙে প্রবেশের ক্ষমতাও তাদের রয়েছে।
এ ছাড়া উৎসে কর কর্তিত করের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় হিসাবের খাতা, নথি, ইলেকট্রনিক রেকর্ড বা ডিভাইস সাময়িকভাবে জব্দ করে নিজস্ব হেফাজতে রাখা এবং নথিপত্র, ইমেজ বা অ্যাকাউন্টের কপি সংগ্রহ করে শনাক্তকরণ চিহ্ন বা সিলমোহর ব্যবহারের ক্ষমতাও রয়েছে কর্মকর্তাদের।
করদাতাদের মনে ভীতির সঞ্চার হতে পারে
এনবিআরের এই উদ্যোগের বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, আইন এত কঠোর না করে আরও সহজ ও তদারকি প্রক্রিয়া সম্মানজনক করা উচিত।
তাঁর মতে, এটি করদাতার মনে ভীতি সঞ্চার করছে। কেউ কর ফাঁকি দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু সবার ওপর এমন কঠোর নীতি চাপানো ঠিক নয়। অবাধ ক্ষমতার ফলে কর্মকর্তাদের মধ্যে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অতীতে অন্যান্য সংস্থায়ও এমন তাৎক্ষণিক তল্লাশিতে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার নজির আছে।
এনবিআরকে আধুনিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ব্রিটিশ আমলের নীলকরদের মতো ভয় দেখিয়ে কর আদায়ের সময় নয় এখন। এনবিআরকে অটোমেশন করা জরুরি। সুন্দর ভাষা ব্যবহার করেও জেল-জরিমানা করা সম্ভব, কিন্তু ‘ইচ্ছে করলেই সব করতে পারব’– এমন মানসিকতা থাকা ঠিক নয়।