বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় মুক্তির আন্দোলন বেগবান হয়
অমরেশ রায়
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চের অষ্টম দিন ৮ মার্চ। রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের জনসভায় দেওয়া ভাষণে দিকনির্দেশনার ভিত্তিতে এদিন শুরু হয় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়। মুক্তিকামী বাঙালির আন্দোলন আরও বেগবান হয়।
৮ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা বেতার থেকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি সম্প্রচার করা হয়। প্রদেশের অন্যান্য বেতার কেন্দ্র থেকেও তা রিলে করা হয়। এতে গোটা দেশের মানুষ নতুন প্রেরণায় আরও উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে। চলমান অসহযোগ আন্দোলন আরও গতি পেয়ে জাতির মুক্তির বন্দরে যাত্রা শুরু করে।
আগের দিনের ভাষণে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীকে দিয়েছিলেন চার শর্ত। বাংলার মুক্তিকামী মানুষকে দিয়েছিলেন ১০ দফা নির্দেশনা। ওই জনসভায় বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশনাও দেন বঙ্গবন্ধু।
তাঁর এই নির্দেশনায় হাইকোর্টের বিচারক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক– সবাই স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেয়। পূর্ব পাকিস্তান কার্যত চলতে থাকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও নির্দেশে। সবাই নেমে আসেন রাজপথে।
ছাত্রলীগের সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ এবং ডাকসুর সহসভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস মাখন ৮ মার্চ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘বাংলার বর্তমান মুক্তি আন্দোলনকে স্বাধীনতার আন্দোলন ঘোষণা করে স্বাধীন বাংলার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানের ঐতিহাসিক জনসভায় যে প্রত্যক্ষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, আমরা তাঁর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য বাংলার সংগ্রামী জনতার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ তৎকালীন ‘পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ’ তাদের নামের আগে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ অংশটি বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়। রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঘোষিত নির্দেশের ব্যাখ্যা দেন।
এদিন পাকিস্তান সরকারের এক প্রেস নোটে দাবি করা হয়, আন্দোলনে ১৭২ জন নিহত, আহত হয়েছেন ৩৫৮ জন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ আরেকটি বিবৃতিতে সামরিক কর্তৃপক্ষের ওই প্রেস নোটের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সেখানে হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে বলা হয়েছে।
- বিষয় :
- বঙ্গবন্ধু
