ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অগ্নিঝরা মার্চ

অসহযোগ আন্দোলন আরও তুঙ্গে

অসহযোগ আন্দোলন আরও তুঙ্গে
×

 অমরেশ রায় 

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬ | ০৭:২২ | আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ | ১২:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

একাত্তরের ১০ মার্চ চলমান অসহযোগ আন্দোলন আরও তুঙ্গে ওঠে। চারদিকে চলেছে মিছিল, সমাবেশ, স্লোগান। স্বাধীনতা ছাড়া বাঙালির এই আন্দোলন যেন থামবার নয়। পাকিস্তানি সামরিক শাসকের সীমাহীন নিপীড়ন, বঞ্চনা ও মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে এদিন বাঙালির মনে ক্ষোভের আগুন আরও বাড়ে। ফলে আগের কয়েক দিনের মতো এদিনও সরকারি-বেসরকারি সব ভবন, ব্যবসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজারবাগ পুলিশলাইন, থানা এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বাসভবনে উড়েছে কালো পতাকা। রাস্তায় চলাচলরত সরকারি-বেসরকারি এমনকি পুলিশ বাহিনীর গাড়িতেও কালো পতাকা উড়তে দেখা গেছে।  

অসহযোগ আন্দোলনের জোয়ারে নারায়ণগঞ্জ কারাগার ভেঙে ৪০ জন কয়েদি পালিয়ে যান। পালানোর সময় কারারক্ষী ও কয়েদিদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে আহত হন ২৭ জন। সামরিক কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে রাজশাহী শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য জারি করা রাত্রিকালীন কারফিউ তুলে নেয়।

অন্যদিকে, গোটা পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের সর্বত্রই অবজ্ঞা করা হচ্ছে পাকিস্তান সরকারের জারি করা কালা-কানুন। কোনো আদেশ-নির্দেশই মানা হচ্ছে না কোথাও। একমাত্র সেনাছাউনি ছাড়া পূর্ব পাকিস্তানের সর্বত্রই তখন বীর বাঙালির নিয়ন্ত্রণে। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশেই চলছে গোটা দেশ। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধুর বাসভবন পরিণত হয় বিকল্প রাষ্ট্রপ্রধানের দপ্তরে।

ধানমন্ডির বাসভবনে একদল বিদেশি সাংবাদিকের কাছে এদিন দেওয়া সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘সাত কোটি বাঙালির রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মুক্তির ব্যাপারে আর কোনো আপস নয়।’ 

আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘বাংলা জাতীয় লীগ’ কার্যকরী কমিটির সভায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি স্বাধীন বাংলার অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল প্রাঙ্গণে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উদ্যোগে কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ, ডাকসুর সহসভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস মাখন। পরে ছাত্রলীগ ও ডাকসু নেতাদের স্বাক্ষরিত ‘স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’-এর বিবৃতিতে বাঙালি সৈন্য, ইপিআর ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের পাকিস্তানি সরকারকে সহযোগিতা না করার আহ্বান জানানো হয়।

বিকেলে আওয়ামী লীগপন্থি ন্যাপের উদ্যোগে ঢাকা নিউমার্কেট এলাকায় পথসভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। লেখক শিল্পী মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে বাঙালি লেখক ও শিল্পীরা রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ শেষে মিছিল করে। ফরোয়ার্ড স্টুডেন্ট ব্লক বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে জনসমাবেশের আয়োজন করে। সিভিল সার্ভিসের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা এক সভায় মিলিত হয়ে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মেনে চলার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেন। 

আরও পড়ুন

×