৪১ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি
রাজাকাররা সংসদে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে ভূলণ্ঠিত করেছেন
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ | ২২:৫৮
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে একাত্তরের ঘাতক-দালাল ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত রাজাকারদের প্রতি শোক প্রস্তাব উত্থাপনের প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছেন ৪১ বিশিষ্ট নাগরিক।
শুক্রবার বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন জাতীয় সংসদের নেতা। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে অনেক মুক্তিযোদ্ধা জনপ্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই চিত্র বর্তমান জাতীয় সংসদে নেই। বরং একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামী ও চিহ্নিত রাজাকাররা সংসদে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে ভূলণ্ঠিত করেছেন। জাতি হিসেবে আমাদের বিশ্বাসঘাতক কিংবা আত্মভোলা হিসেবে চিহ্নিত করার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছেন, যা ইতিহাস সচেতন নাগরিকদের কাছে লজ্জার।
এতে আরও বলা হয়, সদ্য শপথ গ্রহণ করা বিএনপি সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আমরা আবারও অধিকতর লজ্জাজনক এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য অবমাননাকর ইতিহাস তৈরি হতে দেখলাম। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত রাজাকারদের বিষয়ে যে শোক উত্থাপন/প্রকাশ করা হয়েছে, তা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীন বাংলাদেশ ও পবিত্র সংসদ পেয়েছি, সেই সংসদেই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও খুনিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের আত্মত্যাগের চরম অবমাননা। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এক ন্যক্কারজনক প্রচেষ্টা। আমরা একই সঙ্গে মনে করছি, জুলাই চেতনার নাম করে একাত্তরকে মুছে ফেলার ঘৃণ্য অপচেষ্টা শুরু হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, রাজাকার, আলবদর ও মানবতাবিরোধী অপরাধীরা কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই ধরনের পদক্ষেপ আমাদের জাতীয় ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায়গুলোকে বৈধতা দেওয়ার শামিল এবং এটি প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে। আমরা অবিলম্বে জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এই শোক প্রস্তাবের অংশটুকু প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে সংসদ বা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের বিতর্কিত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, অধ্যাপক আবু ইউসুফ, কবি হেনরী স্বপন, কবি শাহেদ কায়েস, কবি মানিক বৈরাগী, গবেষক ও সাংবাদিক এনায়েত কবীর, কবি রইস মুকুল, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহাদাত রাসেল, লেখক পীযূষ কান্তি বড়ুয়া, কবি সঞ্জীব পুরোহিতসহ বিশিষ্টজনরা।
- বিষয় :
- বিবৃতি
