ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীকে ৯ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের চিঠি

অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু অধ্যাদেশ ও বিধান সংসদে পাস না করতে আহ্বান

প্রধানমন্ত্রীকে ৯ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের চিঠি
×

ছবি: সংগৃহীত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ | ০০:৪৫

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু মানবাধিকার বিরোধী অধ্যাদেশ ও বিধান করা হয়েছিল। এগুলো সংশোধন না করে সংসদে পাস না করতে আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক ৯ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান। সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

সোমবার হিউমান রাইটস ওয়াচ, অ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফর্টিফাই রাইটস, আর্টিকেল নাইনটিন, সিপেজি, সিভিকাসসহ ৯টি সংগঠন প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছে। তাদের পক্ষ থেকে একই চিঠি দেওয়া হয়েছে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের কিছু জরুরি মানবাধিকার চ্যালেঞ্জের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে।

চিঠিতে সুপারিশ অংশে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু আইন সংশোধন বা বাতিল করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে যা পূর্ববর্তী সরকারগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ব্যবহার করেছিল। কিছু অধ্যাদেশ, যার মধ্যে মানবাধিকার রক্ষা এবং অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল, গৃহীত হয়েছিল। এই অধ্যাদেশগুলো এখন বলবৎ থাকতে হলে ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ কর্তৃক গৃহীত হওয়া আবশ্যক। তবে, অপব্যবহারকারী আইনগুলোর প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো অপর্যাপ্ত। এই আইনগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন এবং মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য আরও সংশোধন প্রয়োজন। এছাড়া সকল ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে,
সকল মৃত্যুদণ্ডের উপর একটি সরকারী স্থগিতাদেশের জন্য দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

যে আইনগুলো সংশোধন না করে পাস না করার আহ্বান সেগুলো হচ্ছে– ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫, যার মধ্যে রয়েছে গোপনীয়তা, তথ্য সুরক্ষা এবং তদন্ত ক্ষমতা সম্পর্কিত বিধান যা ভবিষ্যতে অপব্যবহারকে সক্ষম করতে পারে; বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫, যা নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য সংশোধন করা উচিত; জাতীয় তথ্য শাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫, যা একটি কর্তৃপক্ষ তৈরি করে ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার বা অপব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত অপারেটর, নিয়ন্ত্রক এবং অভিযোগের প্রতিকারের স্থান হিসেবে কাজ করবে; খসড়া জাতীয় সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৬, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং খসড়া জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৬, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

এছাড়া সুপারিশে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্তির আহ্বান জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার দল বিএনপি সরকারের সামনে নানা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে এই সময়টিকে মানবাধিকার সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের সুযোগ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
 
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, শেখ হাসিনার শাসনামলে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ নানা ধরনের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। তার পতনের পর এসব ঘটনার অনেকটাই কমে এলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ইচ্ছামতো আটক এবং সাংবাদিক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার মতো ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। চিঠিতে মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ ও আইনগত সংস্কারের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট সুপারিশও দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলো বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে। যা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে মানবাধিকার সুরক্ষা বৃদ্ধি করবে। 

আরও পড়ুন

×