এবার পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় হবে বেশি
রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন স্পট ঝুলন্ত সেতুতে ঈদে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটবে। গতকাল সোমবার সেতুটির সিঁড়ি রং করছেন শ্রমিকেরা সমকাল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটিতে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বিপুল জনসমাগমের আশা করছেন পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পছন্দের শীর্ষে থাকা কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলে ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ কক্ষ বুক হয়ে গেছে। দুই পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও বান্দরবানে এই হার ৭০-৯০ শতাংশ। পটুয়াখালী কুয়াকাটার অর্ধেক কক্ষই গতকাল সোমবার পর্যন্ত বুক হয়ে গেছে।
কক্সবাজার: কলাতলীর সৈকতে সাততলা রেইন ভিউ রিসোর্টে কক্ষ ৫১টি। রিসোর্টের কর্মচারীরা জানান, ঈদের পরদিন থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। বাকি কক্ষগুলোও কয়েক দিনের মধ্যে বুকিং হয়ে যাবে।
কলাতলী লাইটহাউস সড়কে ১০ তলাবিশিষ্ট ওয়েল পার্ক হোটেলে কক্ষ আছে ৭৩টি। গতকাল সোমবার এখানে ৯০ শতাংশ কক্ষ খালি ছিল। তবে ঈদের পরদিন থেকে ৬০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানান হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস।
শহরের পাঁচতারকা হোটেল সিগাল, সায়মন বিচ রিসোর্ট, হোটেল রামাদা, ওশান প্যারাডাইস, মেরিন ড্রাইভ সড়কের বেওয়াচ রিসোর্ট, রয়্যাল টিউলিপ বিচ রিসোর্টসহ বিভিন্ন হোটেলেরও একই অবস্থা।
হোটেল-মোটেল মালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে ৯ লাখ ৭০ হাজার পর্যটক এসেছিলেন কক্সবাজারে। এবারের ঈদের ছুটি ২৩ মার্চ পর্যন্ত হলেও ৩০ মার্চ পর্যন্ত টানা কক্ষ বুকিং রয়েছে বেশির ভাগ হোটেলে। শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল গেস্টহাউস, রিসোর্ট ও কটেজে ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। হোটেলের দৈনিক ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৮৭ হাজার। কক্সবাজার চেম্বারের দেওয়া তথ্যমতে, ঈদের ছুটিতে হোটেল-রেস্তোরাঁ, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ১৩টি খাতে অন্তত ৮০০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে। কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, গত বছর ঈদুল ফিতরে ৯ লাখ ৭০ হাজারের মতো পর্যটক এসেছিলেন। এবার দেশ স্থিতিশীল থাকায় ১১ লাখের মতো পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও যানবাহনে যাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় না করা হয়, সেদিকে প্রশাসনের কড়া নজরদারি চান তিনি।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, পর্যটকের কাছ থেকে অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া আদায় ও রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের দাম যেন বাড়ানো না হয়, সেসব তদারকিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবে। পর্যটক হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা।
বান্দরবান: বান্দরবান জেলা শহর ও রুমা ও থানচি উপজেলা মিলিয়ে ৭৩টি হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে। এ ছাড়া লামা, আলীকদমে ৫২টি রিসোর্ট, হোটেল ও কটেজ রয়েছে। এই জেলার নীলগিরি, কেওক্রাডং, বগা লেক, নাফাখুম, নীলাচল, দেবতাখুম, চিম্বুক, মেঘলা পর্যটনকেন্দ্র, শৈলপ্রপাত ঝর্ণা, স্বর্ণ মন্দির, ডিম পাহাড় ঘুরতে বিপুল পর্যটক আসবেন। ইতোমধ্যে ৮০-৯০ শতাংশ কক্ষ বুক হয়ে গেছে।
গত বছরের তুলনায় এবার ঈদে বান্দরবানে পর্যটকের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন জানান, বান্দরবানের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো থাকলে ঈদের ছুটিতে লাখো পর্যটকের সমাগম হবে। ইতোমধ্যে হোটেল, রিসোর্ট-কটেজগুলোতে ৮০-৯০ শতাংশ অগ্রিম বুক হয়ে গেছে।
রাঙামাটি: জেলার সাজেক পর্যটনকেন্দ্রসহ বিভিন্ন এলাকায় ১৮৯টি রিসোর্ট-কটেজ ও হোটেল রয়েছে। ইতোমধ্যে ৭০-৮০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকড। এ ছাড়া ঝুলন্ত সেতুসহ আকর্ষণীয় ৭টি পর্যটন স্পটে লাখো মানুষ আসবেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর পর্যটকের ঢল নামার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
সাজেক কটেজ-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মণ জানান, ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে সাজেকের কটেজ ও রিসোর্টে ২২ মার্চ থেকে ৮ দিন অগ্রিম রুম বুকিং রয়েছে। অনেকেই রুম চাচ্ছেন, তারা দিতে পারছেন না। গত বছরের তুলনায় এবার ঈদের ছুটি বেশি থাকায় দ্বিগুণ পর্যটক আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন নির্বাচিত সরকার আসায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তাই আশা দেখছেন রাঙামাটি আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘এবার লম্বা ছুটিতে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটবে। শহরের ৫৫টি আবাসিক হোটেলে ৭০-৮০ শতাংশ রুম বুক হয়ে গেছে। আশা করছি শতভাগ রুম বুক হয়ে যাবে।’
কুয়াকাটা: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেল রয়েছে ২২০টি। এসব হোটেলের দৈনিক ধারণক্ষমতা ২৫-৩০ হাজার। হোটেল-মোটেল ও অপারেটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার ঈদের ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা দৈনিক লাখের ওপরে উঠতে পারে।
হোটেল ডি মোর-এর ব্যবস্থাপক জয়নুল আবেদীন জুয়েল বলেন, ‘আমাদের হোটেলে মোট ৩০টি কক্ষ রয়েছে। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই বুকিংয়ের ফোন আসছে। ইতোমধ্যে ঈদ-পরবর্তী ৩-৪ দিনের জন্য প্রায় ৪০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুক হয়ে গেছে।’
- বিষয় :
- পর্যটন কেন্দ্র
