ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে অভিনন্দন ও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে আইএলও

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে অভিনন্দন ও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে আইএলও
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬ | ২২:০৯

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৫৬তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ৪৭টি দেশ বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন ও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে দেশগুলো। সোমবার (৩০ মার্চ) জেনেভার বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২০১৯ সালের জুন মাসে আইএলও কনভেনশন ৮১, ৮৭ ও ৯৮ প্রতিপালনে ব্যর্থতার অভিযোগে সংস্থাটির সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন-এর পাঁচজন শ্রমিক প্রতিনিধি একটি মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলার প্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকার ২০২১ সালে পাঁচ বছর মেয়াদি শ্রমখাত সংস্কারসংক্রান্ত একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করে আইএলওর গভর্নিং বডিতে দাখিল করে। দাখিলকৃত এ রোডম্যাপে অর্জিত অগ্রগতির বিষয়ে গত পাঁচ বছরে গভর্নিং বডির আটটি অধিবেশনে আলোচনা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বর্তমান সরকার নবম অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।

সোমবার মামলাটির আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বর্তমান সরকারের সমর্থনে বক্তব্য দেন। সংস্থাটির ৫৬ সদস্যবিশিষ্ট গভর্নিং বডির ১৯টি রাষ্ট্র, দুটি আঞ্চলিক গ্রুপভুক্ত ২৮টি দেশ এবং মালিকপক্ষ শ্রমখাত উন্নয়নে নতুন সরকারের সুদৃঢ় আইনগত ও প্রশাসনিক সংস্কারের অঙ্গীকারের ভূয়সী প্রশংসা করে চলমান মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানায়।

মামলা সংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন অংশগ্রহণ করেন। জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান এবং শ্রমসচিব আব্দুর রহমান তরফদার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত সব গভর্নিং বডি সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান। তিনি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রয়োজনীয়তা এবং শ্রম অধিকার, শ্রমিক সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।

উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত সরকারকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে। এ ম্যান্ডেটের মূলে রয়েছে নির্বাচনি ইশতেহার, যেখানে নাগরিক অধিকার- বিশেষত মানবাধিকার, আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও যোগ্যতা বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং সরকারের এসব অগ্রাধিকার আইএলওর ‘ডিসেন্ট ওয়ার্ক এজেন্ডা’র সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-কে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি মতামত দিয়েছে। সরকার এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে জোর প্রচেষ্টা চালাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত সংশোধনীগুলোর বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও কর্মসংস্থাননির্ভর উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা, পাশাপাশি শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা এ ক্ষেত্রে আইএলওসহ সংশ্লিষ্ট সবার অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন।

আলোচনায় ২২ সদস্যবিশিষ্ট আরব গ্রুপ, ৬ সদস্যবিশিষ্ট উপসাগরীয় অঞ্চলের গ্রুপ, নাইজার, চীন, রাশিয়া, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, তানজানিয়া, ইরান, লিবিয়া, ওমান, ফিলিপাইন, নেপাল, তিউনিসিয়া, ইথিওপিয়া, লাওস, কিউবা, মোজাম্বিক, গ্যাবন ও উজবেকিস্তানসহ মোট ১৯টি দেশ, মালিকপক্ষ এবং দুটি আঞ্চলিক গ্রুপ শ্রমখাতের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করে। সমর্থনকারী দেশগুলোর মধ্যে ১৪টি দেশ, আরব গ্রুপ, উপসাগরীয় অঞ্চলের গ্রুপ এবং মালিকপক্ষ মামলাটি দ্রুত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানায়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা শ্রম আইন সংশোধনের অগ্রগতি, পরিদর্শক নিয়োগ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে অর্জিত উন্নতির প্রশংসা করে রোডম্যাপ পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য আরও পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানায়।

দীর্ঘ আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মামলাটির পরবর্তী আলোচনা আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আরও পড়ুন

×