ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মানবাধিকার, বিচার বিভাগের অধ্যাদেশে বাতিলে ক্ষোভ ৩১ নাগরিকের

মানবাধিকার, বিচার বিভাগের অধ্যাদেশে বাতিলে ক্ষোভ ৩১ নাগরিকের
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০০:০৭

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিল করায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন দেশের ৩১ বিশিষ্ট নাগরিক। যৌথ বিবৃতি তাঁরা সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, এসব অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করা না হলে জনগণ আবারও প্রতিবাদে সোচ্চার হবে। 

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সুলতানা কামাল, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, জেড আই খান পান্না, খুশী কবির, রাশেদা কে চৌধুরী, ইফতেখারুজ্জামান, শিরীন পারভিন হক, শাহীন আনাম, অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, সামিনা লুৎফা, সুমাইয়া খায়ের প্রমুখ। 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার, মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ, তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাস করার দাবি ছিল। বিরোধী দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ও প্রবল আপত্তি উপেক্ষা করে সংসদ এই সব অধ্যাদেশ পাস করেনি। যা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও উচ্চারিত অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অধ্যাদেশ রহিতের প্রভাব সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়, এর ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে। অধস্তন আদালত আবার সরকারদলীয় প্রভাব বিস্তারের পুরনো রেওয়াজে ফিরে যাবে। মানবাধিকার কমিশন আগের মতোই অকার্যকর, আমলাতান্ত্রিক বা দলীয় অনুগত ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হলো। বর্তমান সরকারও অতীতের মতো ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সরকার’ হিসেবে বিবেচিত হবে। 

বিবৃতিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ প্রণয়নে বর্তমান আইনমন্ত্রী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, তাই এ বিষয়ে সরকারের আপত্তি বিস্ময়কর।

নাগরিকেরা বিবৃতিতে মনে করিয়ে দেন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়েছে ১৫ বছরের দুঃশাসনের অবসানের পটভূমিতে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের প্রতিশ্রুতিপূর্ণ গণ–অভ্যুত্থানের সফল পরিণতি হিসেবে। সরকার, সব রাজনৈতিক দলসহ সবারই সেই ম্যান্ডেট ও অঙ্গীকারকে সম্মান করার দায়বদ্ধতা আছে। গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদে অনুস্বাক্ষর করায় গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশটি পাস করা সরকারের বাধ্যবাধকতার একটি অংশ। 

আরও পড়ুন

×