সংসদে নৌপরিবহন মন্ত্রী
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরকে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই
নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ২২:৪৮
চট্টগ্রাম বন্দর কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে সংসদকে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বুধবার সংসদের বৈঠকে বিএনপি দলীয় সদস্য শাহাদাত হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।
বেলা ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয় এবং প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) অথবা সরকারের অনুমোদনে শুধু বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার লক্ষ্যে অপারেটর নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে দেশি এবং বিদেশি উভয় ধরনের অপারেটর বিবেচনাযোগ্য।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অব্যাহত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি অপারেটর দ্বারা বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল পরিচালনা করা হচ্ছে। বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে ডেনমার্কের মার্কস গ্রুপের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস বিভি-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর স্বায়ত্তশাসিত। সরকারের নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত বন্দর কর্তৃপক্ষ পালন করে।
এনসিপির সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন মন্ত্রী জানান, সারাদেশে নদ-নদীতে মোট ২১ হাজার ৯৮২ জন অবৈধ দখলদার রয়েছে। এদের উচ্ছেদের কর্মপরিকল্পনা জানাতে জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। উচ্ছেদযোগ্য তালিকা পেলে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বিএনপির সদস্য মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চলাচল উপযোগী ৪৭টি ফেরি আছে। এর মধ্যে রো-রো ফেরি ১২টি, মিডিয়াম ফেরি ১৬টি, ইমপ্রুভড মিডিয়াম ফেরি ৮, ইউটিলিটি ফেরি ১১টি। বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং ৬টি ইউটিলিটি ফেরি নির্মাণাধীন রয়েছে, যা আগামী জুনের মধ্যে কার্যক্রমে সংযুক্ত হবে। এছাড়া পুরাতন ফেরি প্রতিস্থাপন কল্পে আরও ১৫টি মিডিয়াম ফেরি ও ৫টি ইউটিলিটি ফেরি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে চলাচলে উপযোগী ২টি রোপ্যাক্স ফেরি নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিএনপি দলীয় এমপি এবিএম মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পায়রা সমুদ্রবন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে বন্দরের জেটি হতে ঢাকা-কুয়াকাটা রোডের সংযোগ স্থাপনের জন্য আন্ধারমানিক নদীর ওপর ৪ লেনের সেতু এবং ৬ লেনের টার্মিনাল সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী বছরের প্রথম দিকে বন্দরটি পুরোপুরি চালু হবে বলে আশা করা যায়।
যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যার আধিক্য
বিএনপি দলীয় সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা যক্ষ্মাকে গ্লোবাল হেলথ ইমার্জেন্সি ঘোষণা করার পর থেকেই বাংলাদেশ সরকার যক্ষ্মার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দারিদ্র্য, অপুষ্টি, ধূমপান, ডায়াবেটিস, মেলিটাস, অতিরিক্ত জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং সচেতনতার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে যক্ষ্মা সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়। যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসাসেবা শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় অষুধ ও ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম নিশ্চিককরণের জন্য দাতা সংস্থা গ্লোবাল ফান্ডের অনুদানের পাশাপাশি সরকারি অর্থায়ন বাড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৩ হাজার ১৪২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ার কার্যক্রম চলমান আছে।
কওমি শিক্ষার মান আলিয়ার সমমান
এনসিপির সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) জানান, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সনদের মান আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সনদের মানের সমমান বিবেচনা করে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিলের মতো পুনঃনির্ধারিত হলে অর্থাৎ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সনদের মানকে সমমান হিসেবে বিবেচনা করে প্রজ্ঞাপন জারি হলে সরকারি চাকরি তথা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সম্ভব হবে।
জামায়াতের সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মডেল মসজিদের বিদ্যুৎ বিল সরকারিভাবে পরিশোধের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য প্রতিটি মসজিদের অনুকূলে ১০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল সরকার থেকে পরিশোধ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার জন্য মসজিদ কমিটির উদ্যোগে দান-অনুদান থেকে পরিশোধ করা হয়ে থাকে।
বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের প্রায় ১৪ হাজার ৭২৪ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আর্কাইভ তৈরিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি
এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আর্কাইভ তৈরির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। তবে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের জন্য ডকুমেন্টারি নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট থেকে সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ করে ১৯টি তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়েছে। এ কাজে ৫ কোটি ২৩ লাখ ৭২৩ টাকা ব্যয় হয়েছে।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম বন্দর
- নৌপরিবহন মন্ত্রী
