ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হাসপাতালে নিরাপত্তায় আনসার, বছরে ব্যয় ১৫০ কোটি টাকা

হাসপাতালে নিরাপত্তায় আনসার, বছরে ব্যয় ১৫০ কোটি টাকা
×

ছবি; সংগৃহীত

তবিবুর রহমান

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:১৪ | আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:৪১

দেশের ৪৯৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক নিরাপত্তা এবং মূল্যবান চিকিৎসাসামগ্রী রক্ষায় ৪ হাজার ৯৫০ জন আনসার সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বছরে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় হবে ১৫০ কোটি টাকা। মূলত হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা প্রদান এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিকিৎসকরা তাঁদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপরই এই বড় সিদ্ধান্ত এলো।

তিন শিফটে সশস্ত্র নিরাপত্তা
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রতিনিয়ত বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য ও চুরির ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। তাঁরা তিন শিফটে ভাগ হয়ে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি দলে একজন প্লাটুন কমান্ডার (পিসি), একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি) এবং আটজন সাধারণ আনসার সদস্য থাকবেন।

বিভাগীয় হিসাব অনুযায়ী, এসব সদস্যের বেতন, উৎসব ভাতা, রেশন, চিকিৎসা সুবিধাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য বার্ষিক ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের একটি প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। 

কেন এই উদ্যোগ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, হাসপাতালে বহিরাগতদের কারণে প্রায়ই চিকিৎসকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না। সশস্ত্র আনসার মোতায়েন থাকলে প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ ও দামি যন্ত্রপাতির সুরক্ষা দেওয়া সহজ হবে। উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘স্বাস্থ্য পুলিশ’ মোতায়েনের সুপারিশ করা হলেও তখন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিশেষজ্ঞের মতামত এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সশস্ত্র আনসার মোতায়েনের এই সিদ্ধান্তটি সাময়িকভাবে নিরাপত্তা দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা আরও মানবিক ও শিশুবান্ধব হওয়া প্রয়োজন। জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসকদের আবাসন ও সঠিক তদারকি নিশ্চিত করা গেলে তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক মহাসচিব এবং স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো আমাদের চিকিৎসাসেবার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালে সশস্ত্র আনসার মোতায়েন করার এই সিদ্ধান্তটি চিকিৎসকদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে এবং তাঁদের মনোবল চাঙ্গা করবে। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু পাহারা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। যন্ত্রপাতির সুরক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট দূর করতে হবে। জনবল বাড়ানোর যে পরিকল্পনা মন্ত্রী দিয়েছেন, সেটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে চিকিৎসকদের ওপর কাজের চাপ কমবে, ফলে সেবার মান বাড়বে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনাও হ্রাস পাবে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বড় হাসপাতালগুলোয় অস্ত্রসহ ১০ জন করে আনসার সদস্য স্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হবে। সম্প্রতি কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী। স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট দূর করতে খুব শিগগির এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×