স্বপ্নের সেতু দেখে যেতে পারলেন না সাংসদ বাদল
মঈন উদ্দিন খান বাদল
মো. শাহীনুর কিবরিয়া মাসুদ, বোয়ালখালী
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০১৯ | ০৬:৪৭ | আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৯ | ০৬:৫৭
টানা তিনবার চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি মঈন উদ্দিন খান বাদল। গত বছর নিজ নির্বাচনি এলাকার কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপরে নতুন সেতু নির্মাণের দাবিতে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগেরও ঘোষণা দিয়েছিলেন এই জাসদ নেতা। এরপর সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু সেতু নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ভোরে ৬৭ বছর বয়সে ভারতের বেঙ্গালুর নারায়ণা হৃদয়ালয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ। তাঁর মৃত্যুতে বোয়ালখালীর সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মঈন উদ্দিন খান বাদল। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও সংসদ সদস্য হন তিনি। সুবক্তা হিসেবে জনমানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন এ জাসদ নেতা। শুরু থেকেই বোয়ালখালীকে স্বপ্নের উপজেলা হিসেবে গড়তে চেয়েছিলেন তিনি। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে বড় বাধা ছিল কর্ণফুলী নদীর উপর ব্রিটিশ আমলে নির্মিত জরাজীর্ণ কালুরঘাট সেতু। সংসদে বারবার তিনি কালুরঘাটে নতুন সড়ক সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বছর দুই আগে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন বাদল। ২০১৮ সালের এক সংসদের অধিবেশনে তিনি ঘোষণা দেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কালুরঘাট সেতুর বিষয়ে সুরাহা না হলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করবেন। এ সেতু নির্মাণের প্রয়োজনে নিজ দল জাসদ ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদানের কথাও বলেছিলেন তিনি। যে কোনো কিছুর বিনিময়ে কালুরঘাট সেতু নির্মাণের মধ্যদিয়ে চট্টগ্রামবাসীর আশা পূরণ করতে চেয়েছিলেন বর্ষীয়ান এ নেতা। এ সেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে করারও প্রস্তাব রেখেছিলেন সংসদে।
সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর কালুরঘাটে সড়ক ও রেলসেতু নির্মাণের দাবিতে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাসদ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি'র বক্তব্যে সাংসদ মঈন উদ্দিন খান বাদল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি এটা করবেন বলে আশা রাখি।
বোয়ালখালী উপজেলাকে দেশের আধুনিক মডেল উপজেলা করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন বাদল। বোয়ালখালী পৌর এলাকার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাশে একটি কারিগরি বিদ্যালয় করারও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া উপজেলার পাহাড়ে অবস্থিত তিন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র ও কমপ্লেক্স গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন বর্ষীয়ান এ নেতা।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা সারোয়াতলীতে জন্মগ্রহণ করেন মঈন উদ্দিন খান বাদল। তিনি জাসদ একাংশের কার্যকরী সভাপতি ছিলেন। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বোয়ালখালী শাখার সভাপতি শ্যামল বিশ্বাস বলেন, সাংসদ বাদলের মৃত্যুতে বোয়ালখালীবাসী একজন গুনী ব্যক্তিকে হারালো। তাঁকে আরো বেশ কিছুদিন বোয়ালখালীবাসীর প্রয়োজন ছিলো।
বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি রাজু দে বলেন, মঈন উদ্দিন খান বাদল গণমানুষের মনের কথা সাবলীলভাবে সংসদে তুলে ধরতেন। তাঁর চিরবিদায়ে দেশের অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে গেল।
- বিষয় :
- মঈন উদ্দিন খান বাদল
