মোবাইল সিমের ওপর ট্যাক্স প্রত্যাহার চায় এমটব
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ২২:১৫
দেশের মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব) সিম ও ই-সিমের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারসহ টেলিযোগাযোগ খাতে করের বোঝা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সংগঠনটি বলছে, বিদ্যমান কর কাঠামো ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এমটব ২৩ দফা দাবি উপস্থাপন করে। এতে ভোক্তা পর্যায়ে কর কমানো, সিমের ওপর নির্ধারিত ভ্যাট প্রত্যাহার, স্পেকট্রামে দ্বৈত কর বন্ধ এবং কর্পোরেট করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বর্তমানে দেশে মোবাইল সেবায় গ্রাহকদের সিম কিনতে ৩০০ টাকা ভ্যাট দিতে হয়। পাশাপাশি সেবার ওপর প্রায় ২১ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্স আরোপ রয়েছে। এমটবের মতে, এ ধরনের কর বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ডিজিটাল সেবায় প্রবেশকে নিরুৎসাহিত করছে। তাই সিম ও ই-সিম সরবরাহ এবং প্রতিস্থাপনের ওপর আরোপিত এই ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এমটব আরও জানায়, বর্তমানে টেলিকম সেবায় ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১ শতাংশ সারচার্জ কার্যকর রয়েছে, যা সরাসরি গ্রাহকের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যের সঙ্গে এ ধরনের উচ্চ কর নীতির অসামঞ্জস্য রয়েছে উল্লেখ করে সংগঠনটি এসব শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে।
স্পেকট্রামের ওপর আরোপিত ভ্যাট নিয়েও আপত্তি তুলেছে এমটব। তাদের যুক্তি, স্পেকট্রাম বরাদ্দের সময় কোনো প্রকৃত মূল্য সংযোজন না হলেও ভ্যাট দিতে হয়, আবার সেই স্পেকট্রাম ব্যবহার করে সেবা দেওয়ার সময় পুনরায় ভ্যাট আরোপ করা হয়, যা কার্যত দ্বৈত কর। এ নীতি বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
কর্পোরেট করের ক্ষেত্রেও চাপ কমানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বর্তমানে তালিকাভুক্ত মোবাইল অপারেটরের করহার ৪০ শতাংশ এবং অতালিকাভুক্তদের জন্য ৪৫ শতাংশ, যা অন্যান্য খাতের তুলনায় বেশি। এই হার কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির দাবি তাদের।
এছাড়া ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সেবার ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে এমটব। তাদের মতে, এতে কনটেন্ট খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে ডিজিটাল সেবার ব্যবহার বাড়বে।
সংগঠনটির মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের মোট আয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের ভ্যাট ও কর হিসেবে সরকারকে দিতে হয়। স্পেকট্রাম নিলামের বছরগুলোতে এই চাপ আরও বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগের তুলনায় আয় ও মুনাফা সন্তোষজনক থাকছে না।
তিনি আরও জানান, দেশে মোবাইল ভয়েস ও ইন্টারনেটের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় গ্রাহক সংখ্যা বেশি হলেও গ্রাহকপ্রতি গড় আয় ১৫০ টাকার নিচে রয়ে গেছে। এতে অপারেটরদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
এমটবের দাবি, টেলিযোগাযোগ খাতে করের চাপ কমানো গেলে একদিকে যেমন ডিজিটাল সেবা বিস্তৃত হবে, অন্যদিকে বিনিয়োগ বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
