ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সংসদে জ্বালানি মন্ত্রী

একাত্তরে ‘কসাই’ টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন গোলাম আযমরা

একাত্তরে ‘কসাই’ টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন গোলাম আযমরা
×

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:৪১

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন নেতা গোলাম আযমসহ একদল রাজনীতিবিদ ‘কসাই’ খ্যাত জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক করে বাঙালি দমনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি বলেন, তারা ৪৭-কেও মানেননি, ৭১-কেও মানেননি। অথচ আজ ৪৭-এর বলিদান নিয়ে কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

একাত্তরের ইতিহাস তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ৭১-এর ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন রাজারবাগে পুলিশ হত্যা করে বিভীষিকা তৈরি করেছিল, জাতি যখন দিশেহারা, তখন আমরা মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে উজ্জীবিত হয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক হলো, তখন গোলাম আযমসহ কিছু রাজনীতিবিদ টিক্কা খানের সঙ্গে বৈঠক করে বাঙালি দমনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল এবং পরবর্তীতে গোলাম আযম ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে গভর্নর হাউসে টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করেন। তারা শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠন করে মুক্তিকামী বাঙালিদের ওপর অপরাধ চালিয়েছে। এটা ইতিহাসের ধ্রুব সত্য।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, একাত্তর বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের গর্বের জায়গায়, একাত্তর না হলে আমরা আজকে এই পার্লামেন্টে বসতে পারতাম না। একাত্তর না হলে আমরা কেউ সংসদ সদস্য হতে পারতাম না। একাত্তর না হলে আপনার এই দেশের মন্ত্রী হতে পারতাম না। তাই আমি বলব, যারা বলেন ৪৭। ৪৭ তো আমার সবচেয়ে বেশি অহংকার করার কথা। উনারা অনেক সময় বলেন ৪৭-এর বলিদান। উনারা তো ৪৭-কে মানেননি। একাত্তর কেও মানেননি ৪৭-কে মানেননি। কিন্তু আজকে ৪৭ কেন উনারা নিয়ে আসেন আমি বুঝি না।

দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও পেট্রোল ও বিদ্যুৎ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ছিল। বিরোধী দলের সদস্যরাও এ নিয়ে কথা বলেছিলেন। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এখন আর পেট্রোলের লাইন নেই, বিদ্যুতের লোডশেডিংও অনেক কমে গেছে। আমরা সরকারি ও বিরোধী দল মিলে কমিটি করেছি, দেশটাকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা নিরলস কাজ করছি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমাকে মিথ্যা মামলায় ৯ বছরের জেল দিয়েছিল। আমি বলেছিলাম, হাসিনার জেলে যাব না। তাই দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। আল্লাহর হাজার শুকরিয়া, আমাকে জেলে যেতে হয়নি, হাসিনাই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, নাহিদের মতো তরুণরা যখন সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলে, তখন আমার নিজের তরুণ বয়সের আন্দোলনের কথা মনে পড়ে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেমন তলাবিহীন ঝুড়ির দেশটাকে উন্নয়নের মডেলে পরিণত করেছিলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বেও আমরা এই দেশটাকে নতুন বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। তারেক রহমান যা বলেন, তা-ই করেন।

আরও পড়ুন

×