শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড গণ্য হচ্ছে গণহত্যা হিসেবে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ০৮:২৯ | আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ | ১১:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
১৩ বছর আগে রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। একে গণহত্যা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এর তদন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান আনসার উদ্দিন খান পাঠান সমকালকে বলেন, ‘তদন্ত কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।’
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম মহাসমাবেশ ডাকে। শাহবাগের আন্দোলনের বিপরীতে ব্লগারদের শাস্তি দাবিতে সেই কর্মসূচি দেয় সংগঠনটি। সেই সমাবেশ ঘিরে মতিঝিল এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা আর তাণ্ডব চলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়।
সমাবেশের পর হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচি এবং পরে রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে অবস্থানকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দিলেও এর একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে রাজনীতিতে। বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, ৫ মে’র সেই ঘটনা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বেশ বিচলিত করে তোলে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে এ অভিযোগ দেন আরেক হেফাজত নেতা আজিজুল হক। অভিযোগে ২৫ জনকে আসামি করার প্রস্তাব করা হয়। এই অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আসামির তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেকের নাম উঠে এসেছে।
১৩ বছর আগের সেই ঘটনায় করা মামলায় ওই সময়কার সরকারপ্রধান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, ডিএমপির সাবেক কমিশনার বেনজীর আহমেদ, সাবেক র্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে বলে প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে।
গত রোববার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে শুধু ঢাকায় ৩২ জন নিহত ব্যক্তির তালিকা পেয়েছেন। তারা শাপলা চত্বরেই নিহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সব আসামির নাম প্রকাশ করা ঠিক হবে না।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, পুলিশ সদস্যসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অনেকের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি কেউ কেউ আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বলেও প্রমাণ মিলেছে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও তদন্তের আওতায় আনা হবে। এই মামলার ছয় আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। আগামী ৭ জুন মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য রয়েছে।
শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে হতাহতের ঘটনা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে অন্তত ৬১ জন নিহতের তথ্য জানিয়েছিল সংগঠনটি। অধিকারের প্রতিবেদনের পর দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতার বিবৃতি
শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে দেখতে না পারার ব্যর্থতা স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকায় যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, তা আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বর্বরোচিত ও কলঙ্কময় অধ্যায়। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি।
- বিষয় :
- হেফাজতে ইসলাম
- হত্যাকাণ্ড
- গণহত্যা
