এআই ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনে ঝুঁকিতে ৫৬ লাখ চাকরি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ০৭:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকস ও দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে দেশে প্রায় ৫৬ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন প্রায় ৫০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেও সেই নতুন শ্রমবাজারের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত নন তরুণরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এসব কথা বলেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এ সংলাপের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।
সংলাপে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশে নতুন করে আরেকটি শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এই আন্দোলন শিক্ষার মান ও ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থী স্কুলে ভর্তি হচ্ছে, কিন্তু সে কী মান নিয়ে বের হচ্ছে, সেটাই এখন বড় বিষয়। এই অর্থনীতিবিদ বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন না হলে, শিক্ষা ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা দূর করা না গেলে এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা না গেলে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে (এসএমসি) কোনোভাবেই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের রাখা যাবে না।
সংলাপে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হবে না। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে মিছিল করেছেন। কিন্তু আমরা অবস্থানে অনড়। তারা প্রশিক্ষণ শেষ করে আগামী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন। দেশের ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড তৈরি করে তার আওতায় আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। ববি হাজ্জাজ বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রযুক্তির পেছনে অন্ধভাবে দৌড়াতে চায় না সরকার। প্রযুক্তি হবে পাঠদানের একটি সহায়ক সরঞ্জাম মাত্র।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু বলেন, গণতন্ত্র বজায় রেখেও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেন, দেশে প্রায় ৭৩ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য থাকলেও ২০২৫ সালে মাত্র ১০ হাজার পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু অর্থের সংকট নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিফলন।
জবাবদিহি ও বাজেট বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি
সংলাপে অংশ নেওয়া বক্তারা শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের দাবি জানান। জবাবে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার শিক্ষা বাজেট বাড়ানোর ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
- বিষয় :
- প্রযুক্তি
