ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বন্দিবিনিময় চুক্তি ছাড়াও ৪৯৫ জন দেশে ফেরত

বন্দিবিনিময় চুক্তি ছাড়াও ৪৯৫ জন দেশে ফেরত
×

 সাহাদাত হোসেন পরশ

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ | ০৯:৫৫

বন্দিবিনিময় চুক্তি ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৪৯৫ বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত আনা হয়েছে। মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্টের (এমএলএআর) মাধ্যমে ২০২৪ সালের শুরু থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত তাদের ফেরত আনা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের ওভারসিজ অ্যাফেয়ার্স বিভাগ এটির সমন্বয় করে।

এ প্রক্রিয়ায় যারা ফেরত এসেছেন, তারা বিভিন্ন দেশের কারাগারে বন্দি ছিলেন। এসব ব্যক্তিকে ফেরত আনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কোনো সহায়তার প্রয়োজন হয়নি। এমনকি ইন্টারপোলের সঙ্গে সমন্বয়কারী ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) কোনো সহায়তা লাগেনি। গতকাল রোববার পুলিশের একটি সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে তাঁকে ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নথি আমিরাত সরকারের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একজন কর্মকর্তা সমকালকে জানিয়েছেন, এমএলএআরে যারা এসেছেন, তাদের মধ্যে বাহরাইন থেকে আনা সাত বাংলাদেশি আছেন। তারা অনেক দিন দেশটির কারাগারে বন্দি ছিলেন। সেখানে তারা যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছিলেন। তারা এখন বাংলাদেশের কারাগারে সাজার বাকি মেয়াদ পার করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত থেকে এমএলএআরে সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের কারাগারে থাকা ভারতের অনেক জেলেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। 

বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত হয়ে বিদেশের কারাগারে বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি থাকলে তা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর। এটি তাঁর পরিবারের জন্য বেদনদায়ক। তাই দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি মানবাধিকারের সঙ্গে যুক্ত। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বন্দিবিনিময় চুক্তি না থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্য দিয়ে যে কোনো দেশ থেকে কাউকে ফেরত আনা যায়। এ ছাড়া অন্য দেশের নাগরিককে নিজ দেশে পাঠানো সম্ভব। এ জন্য পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রাধান্য পায়। বর্তমানে ভারত, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দিবিনিময় চুক্তি রয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমএলএআর ছাড়াও ‘ডিপোর্টি’ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। সাধারণত ভিসা লঙ্ঘন, অবৈধ প্রবেশ বা অপরাধমূলক কার্যকলাপের কারণে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফেরত এসেছেন ৪৪৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৫২, মার্চে ৩২৩ ও এপ্রিলে ৫০৩ জন। 
কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তি থাকা জরুরি নয়। সবার আগে প্রয়োজন পারস্পরিক সম্পর্কের গভীরতা। 

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, এমএলএআর এবং ডিপোর্টি হিসেবে বাংলাদেশের নাগরিকদের ফেরত পাঠানা হয়। ফেরত পাঠানোদের সহযোগিতা করে থাকে ব্র্যাক। 

কূটনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা 

ঢাকায় বিদেশি দূতাবাস, হাইকমিশন, কনস্যুলেট, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, পুলিশ অ্যাটাশে ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের সমন্বয় সভা হবে। বাংলাদেশ পুলিশের ওভারসিজ অ্যাফেয়ার্সের আয়োজনে ২৯ জুন ঢাকার একটি হোটেলে এটি শুরু হবে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এর লক্ষ্য হলো– কূটনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় ও সক্ষমতা বাড়ানো। 

ঢাকার এই আয়োজনে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র সচিব ছাড়াও বিভিন্ন দেশের শতাধিক কূটনীতিবিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। 

দূতাবাসে চাকরি করতে চান ১০৫ কর্মকর্তা 

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার ও প্রবাসীদের সুরক্ষায় বিদেশের কয়েকটি দূতাবাসে পুলিশ নিয়োগের জোরালো দাবি অনেক দিনের। দূতাবাসে পুলিশের জন্য আলাদা পদ না থাকলেও অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাও পদায়ন পেতে পারেন। সেখানে কাজ করতে আগ্রহী ১০৫ পুলিশ কর্মকর্তা আবেদন করেছেন।

পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যালয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দূতাবাসে পুলিশ নিয়োগের দাবি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান বলেছিলেন, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, দুবাই, ইতালি, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। এসব দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে লিয়াজোঁ কর্মকর্তা ও লিগ্যাল অ্যাটাশে হিসেবে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হলে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যায় তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে। 

আরও পড়ুন

×