রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করা যায়নি: সালেহউদ্দিন আহমেদ
ছবি: সমকাল
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ২২:১৩
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, রাজনৈতিক ম্যান্ডেট ও পর্যাপ্ত ক্ষমতার অভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে দেড় বছরে সরকার শুধু ‘খারাপ’ কাজ করেনি, বরং অর্থনীতিকে গভীর সংকট থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছে।
শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তনে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ চারটি প্রোগ্রামের মোট ৩৬৫ শিক্ষার্থীকে সমাবর্তন দেওয়া হয়।
সমাবর্তন বক্তা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি ছিল গভীর সংকটে। ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার ও রাজস্ব প্রশাসনসহ প্রায় সব খাতেই অস্থিরতা ছিল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গিয়েছিল এবং চলতি হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য নেতিবাচক অবস্থায় ছিল। এসব কারণে নতুন সংস্কারের চেয়ে ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে সামাল দিতেই বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে। আমি দুটি শব্দ ব্যবহার করি—রিপেয়ার ও রিফর্ম। প্রথমে আমাদের রিপেয়ার করতে হয়েছে, পরে রিফর্ম।’
সাবেক এই অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকে জানতে চান দেড় বছরে সরকার কী করেছে? কিন্তু এক দিনে সব পরিবর্তন হয় না। আমরা সব খারাপ করে আসছি, তা তো না। অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের অভাব। আমাদের স্ট্রেন্থ ছিল না, ম্যান্ডেটও ছিল না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।’
ব্যাংক খাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল আইনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আইন সংস্কার ছাড়া শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনায় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। কিছু ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের অর্থসহায়তা দিতে হয়েছে।
সালেহ উদ্দিন আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘদিন নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেয়নি। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলো এ ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার পরও অনেক শিল্প এখনো প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারেনি। বিশ্ব অর্থনীতির নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।’
সমাবর্তনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্ব, উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের দায়িত্ব নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইবিএ’র পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ। তিনি বলেন, ‘শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের লক্ষ্য হওয়া উচিত নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করা। দেশের কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, লজিস্টিকস ও ডিজিটাল ফাইন্যান্স খাতের সীমাবদ্ধতাগুলো একেকটি সম্ভাবনার ক্ষেত্র। এসব ক্ষেত্রে নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজেদের পথ নিজেদেরই তৈরি করতে হবে।
সমাবর্তনে ১১৬ জন শিক্ষার্থীকে বিবিএ, ১২৬ জনকে এমবিএ, ১২২ জনকে ইএমবিএ এবং একজন শিক্ষার্থীকে ডিবিএ ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ২৬ জন শিক্ষার্থীকে ‘ডিরেক্টরস অনার লিস্ট’ পুরস্কার এবং দুজন শিক্ষার্থী স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।
