ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সংলাপে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

অতীতে জ্বালানি খাত নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে পরিচালিত হতো

অতীতে জ্বালানি খাত নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে পরিচালিত হতো
×

আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ শীর্ষক সংলাপ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ২২:৩৮

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে অতীতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে পরিচালিত করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, পতিত সরকারের সময়ে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে আমদানিনির্ভর জ্বালানি কাঠামো গড়ে তোলা হয়, যার ফলে এখন জনগণের করের টাকায় বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

আজ রোববার একটি হোটেলে আয়োজিত ‘আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ঢাকা স্ট্রিম।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অতীতে জ্বালানি খাত কয়েকজন ব্যক্তি ও কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। শিল্পমালিক থেকে সাধারণ ভোক্তা পর্যন্ত সবাই তাদের কাছে জিম্মি ছিলেন। কয়েকটি কোম্পানি পুরো জ্বালানি খাতকে বেঁধে ফেলেছিল। এই বিষধর চক্র বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিয়েছে।

তিনি জানান, আগামী বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কেন্দ্র করে সরকার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য সামনে রেখে জ্বালানির মিশ্রণ পুনর্গঠন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বৃদ্ধি, আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য কাঠামো নির্ধারণ, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, গ্যাস অনুসন্ধানে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা এবং জ্বালানির ন্যূনতম মজুত নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিপুল বরাদ্দ থাকলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মোট বরাদ্দের ৪ শতাংশেরও কম দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং আসন্ন বাজেটে এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য মনজুর হোসেন বলেন, নতুন জ্বালানি কৌশলপত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। 

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সোলার খাতে ট্যারিফ প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সহযোগিতামূলক মনোভাবের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিপিডির গবেষক খালিদ মাহমুদ মূল প্রবন্ধে বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতি আমদানিতে এখনো উচ্চ শুল্ক ও কর বহাল রয়েছে। তিনি ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়নের সুপারিশ করেন। 

ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক ও প্রকাশক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করতে উদ্যোক্তাদের ৩২টি দপ্তরে যেতে হয়, যা বড় ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।

আরও পড়ুন

×