ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নির্বাচন আয়োজনে ইসি খুবই নিরপেক্ষ ছিল

নির্বাচন আয়োজনে ইসি খুবই নিরপেক্ষ ছিল
×

ছবি-সংগৃহীত

 কূটনৈতিক প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ০৮:২২ | আপডেট: ২২ মে ২০২৬ | ০৯:০০

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণগ্রস্তদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেনি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন্স (আনফ্রেল)। তবে সংস্থাটি মনে করে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) খুবই নিরপেক্ষ ছিল এবং তাদের উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় আনফ্রেল।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন গতকাল প্রকাশ করে সংস্থাটি। এ উপলক্ষে সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে আনফ্রেলের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দলের প্রধান রোহানা হেত্তিয়ারাচ্চি, নির্বাহী পরিচালক ব্রিজা রোজালেস এবং নির্বাচন বিশ্লেষক কার্লো আফ্রিকা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ কর্মকর্তারা। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন আনফ্রেলের সিনিয়র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর থারিন্দু আভেয়রাথনা।

ঋণগ্রস্তদের মধ্যে কাউকে কাউকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়েছে। আবার কাউকে অংশ নিতে দেয়নি ইসি। এ ক্ষেত্রে ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে পর্যবেক্ষণ জানতে চাইলে ব্রিজা রোজালেস বলেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণ সামগ্রিক হওয়া উচিত। মনোযোগের ক্ষেত্রগুলোর বিভিন্ন অংশ নিয়ে আলোচনা করা উচিত। নির্বাচন কমিশন খুবই নিরপেক্ষ ছিল এবং আমরা উন্নতি দেখেছি।’ এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনের সচিবের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আশা করি, যেহেতু নির্বাচন কমিশনের সদস্য এখানে আছেন, তারা এর সমাধান করবেন। ঋণগ্রস্তদের সুযোগ দেওয়াকে কী আনফ্রেল নিরপেক্ষ হিসেবে পর্যবেক্ষণ দিচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তরে ব্রিজা রোজালেস বলেন, ‘ঋণগ্রস্তকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি  আমরা পর্যবেক্ষণ করিনি। তবে আমরা চ্যালেঞ্জটি স্বীকার করি।’

ঋণখেলাপিদের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘এ নিয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে চাই না। কারণ, সর্বোচ্চ আদালতে দুটি মামলা বিচারাধীন। তবে আমরা কারও প্রতি দয়া দেখাইনি।’

সংবাদ সম্মেলনের সমাপনীতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দলের প্রধান রোহানা হেত্তিয়ারাচ্চি বলেন, ‘আমি বলছি না নির্বাচন শতভাগ ত্রুটিমুক্ত হয়েছে। নির্বাচন আরও ভালো করার সুযোগ আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দীর্ঘ সময় পর ইসি একটি ভালো নির্বাচনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। নির্বাচন কমিশনের  সঙ্গে দেখা করে আমরা বুঝতে পারলাম যে, তাদের একটি পরিকল্পনা আছে। তারা যা করেছে তা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, এমনকি স্থানীয় নির্বাচনেও তারা যে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সুতরাং, নির্বাচন কমিশনের ওপর আমাদের যথেষ্ট আস্থা আছে।’

আনফ্রেলের প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়, নির্বাচনের স্থায়ী সংকট ছিল জবাবদিহির অভাব। নির্বাচনী অনিয়ম হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আস্থা সীমিত ছিল, বিশেষত অর্থের প্রভাব ও নির্বাচনী অর্থায়নের বিষয়টি উঠে এসেছে। পোস্টার-সংক্রান্ত বিধিগুলো দৃশ্যমান হওয়া সত্ত্বেও তার প্রয়োগে ছিল স্পষ্ট অসামঞ্জস্য, যা কমিশনের নিজস্ব বিধিবিধান কার্যকর করার ক্ষমতা নিয়ে জনমনে আস্থা হ্রাস করেছে। নির্বাচন-পূর্ব ও প্রচারের সময় ভয়ভীতি ও সহিংসতার পরিবেশ ছিল উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে সূক্ষ্ম চাপ প্রয়োগ ও পেশিশক্তির ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। 

আনফ্রেলের পরিদর্শন করা ভোট প্রদান ও গণনার কেন্দ্রগুলো সাধারণত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং অংশীজনের উপস্থিতি ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। তবে, স্বচ্ছতামূলক সুরক্ষা ব্যবস্থা সমানভাবে প্রয়োগ হয়নি। কোনো কোনো স্থানে গণনার জন্য ব্যালট বাক্স খোলার সময় মূল যাচাইকরণ পদক্ষেপগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা একইভাবে কার্যকর ছিল না। তবে এতে ভোটের ফলাফল পরিবর্তিত হয়েছে এমন প্রমাণ করে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ভবিষ্যতে বিষয়গুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করে আনফ্রেল। কিছু এলাকায় সংখ্যালঘু ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ভয়ের কথা জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও সর্বজনীন অংশগ্রহণের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, গণভোটের ফলাফল জুলাই সনদের অধীনে সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতির প্রত্যাশা জোরদার করে।

আরও পড়ুন

×